সবং: হাইকোর্টের নির্দেশে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সবং থানার উদ্যোগে শুরু হয় বড়সড় উচ্ছেদ অভিযান। লক্ষ্য — সেকচক এলাকার রাস্তার ধারে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানগুলি। আদালতের নির্দেশ মেনে, প্রায় ৪৪টি দোকান সরানোর নির্দেশ পায় প্রশাসন। সকাল থেকেই পুলিশ এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের উপস্থিতিতে চলে এই অভিযান। একদিকে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন পথচারীরা, অন্যদিকে চোখে জল যাদের জীবিকা এক মুহূর্তে ভেঙে পড়ল।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় এক বাসিন্দার দীর্ঘদিনের অভিযোগ এবং আদালতের নির্দেশের ভিত্তিতে বাধ্য হয় প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিতে। বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় ১০টি দোকান ভেঙে দেওয়া হয়। বাকিদের সোমবার পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে নিজেদের দায়িত্বে দোকান সরিয়ে নেওয়ার জন্য। স্পষ্ট বার্তা প্রশাসনের — “নির্ধারিত সময়ে না সরালে, বাকিগুলিও গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।”

অভিযানের সময় সেকচক এলাকা ছিল কার্যত পুলিশ-বেষ্টিত। যেকোনও অশান্তি এড়াতে বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়। তবে প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও, আবেগে ভেসে যান দোকানদাররা। কেউ দশ বছরের পুরনো দোকানের ধ্বংসস্তূপে বসে কাঁদছেন, কেউবা অসহায় চোখে দেখছেন জীবিকার শেষ অবলম্বন ভেঙে পড়ছে মুহূর্তে।
একই সঙ্গে, এই উচ্ছেদ দুই বিপরীত প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। পথচলতি মানুষদের একাংশের মতে, রাস্তার ধারে বেআইনি দোকানগুলির কারণে যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছিল—“এখন অন্তত রাস্তাটা প্রশস্ত লাগছে, হাঁটাচলা অনেক সহজ হবে।” কিন্তু অপর দিকে যাদের মাথার উপর ছাদটাই ভেঙে গেল, তাদের মুখে শুধু হতাশা—“এই দোকানটাই ছিল আমাদের সংসারের একমাত্র ভরসা, এখন আমরা যাব কোথায়?”

এই পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন প্রশাসনের মানবিক দায়িত্ব নিয়ে। স্থানীয়দের একাংশের মত, “আইনের শাসন ঠিক আছে, কিন্তু পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ করলে মানুষ কোথায় যাবে? প্রশাসনের উচিত বিকল্প জীবিকার পথ খুঁজে দেওয়া।”
সবং ব্লক প্রশাসনের এক কর্তা জানিয়েছেন, “হাইকোর্টের নির্দেশই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আমরা আদালতের নির্দেশ মেনে কাজ করছি। তবে, যাদের দোকান ভেঙে দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে তাদের বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।”

সবংয়ের এই উচ্ছেদ অভিযানে একদিকে যেমন প্রশাসনিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হলো, তেমনই অন্যদিকে উন্মোচিত হলো এক গভীর মানবিক সংকট। আদালতের নির্দেশে আইনের জয় হলেও, জীবিকার লড়াইয়ে হেরে গেল সাধারণ মানুষ।

