BLO: ভোটার তালিকা সংশোধন—যেখানে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা, কঠোর নথিপরীক্ষা ও প্রশাসনিক সততার প্রশ্ন জড়িয়ে থাকে—সেই কাজই এলোমেলো করে দিল ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা। মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি থানার পিল্কি গ্রামে উঠে এলো এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। সেখানে স্বামী–স্ত্রীর দাম্পত্য অশান্তির প্রতিশোধ নিতে স্ত্রীকে “মৃত” দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়েছেন স্বামী, তিনি আবার ওই বুথের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএলও!
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু প্রভাকর মণ্ডল, পেশায় পার্শ্বশিক্ষক এবং দীর্ঘদিন ধরে সাগরদিঘির ১৪৯ নম্বর বুথে বিএলও হিসেবে কর্মরত। স্ত্রী টুম্পা দাস মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর বিবাহিত জীবনে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি। এমনকি দেড় বছর আগে নির্যাতন ও কলহের জেরে টুম্পা পাঁচ বছরের সন্তানকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন। পুলিশ, আদালত—সব চেষ্টা করেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। বিবাহবিচ্ছেদের মামলাও এখনো চলছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই সম্প্রতি টুম্পাদেবী জানতে পারেন—ভোটার তালিকায় তাঁর নামের পাশে লেখা “ই”—অর্থাৎ “Expired”, মৃত!
অবাক নয়, বিস্মিত হয়ে তিনি প্রশাসনে লিখিত অভিযোগ জানান। কারণ ২০০২ সালে তাঁর বয়সে ভোটাধিকার না থাকলেও বর্তমান তালিকায় তিনি জীবিত ভোটার হিসেবে আছেন—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাঁকে মৃত দেখানো—এ সরাসরি প্রতিহিংসার ইঙ্গিতই দেয়।
টুম্পাদেবীর অভিযোগ, “দাম্পত্য অশান্তির বদলা নিতে স্বামীই ইচ্ছে করে আমার নাম ‘মৃত’ দেখিয়েছে। আমাকে ভোটদানের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা।”
এদিকে প্রভাকর মণ্ডল কিন্তু নীরব। কিন্তু প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। সাগরদিঘির বিডিও শতাংশুনাথ চক্রবর্তী জানিয়েছেন— “প্রাথমিক তদন্তেই স্পষ্ট হয়েছে, টুম্পাদেবী জীবিত থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ‘মৃত’ দেখিয়ে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এআরও-র তরফে বিএলওকে ‘কারণ দর্শানো নোটিস’ জারি করা হচ্ছে।” টুম্পা দাসকে প্রশাসন ইতিমধ্যেই জানিয়েছে—কীভাবে পুনরায় নিজের নাম ভোটার তালিকায় আনতে হবে।
অর্থাৎ এই নিয়ে প্রশাসন বিষয়টিকে মোটেও ‘ছোটখাটো ভুল’ বলে দেখছে না। কাজের দায়িত্বে থেকে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় ঢুকিয়ে দেওয়া একটি গুরুতর অপরাধ।
অপরদিকে স্থানীয় মানুষের বক্তব্য— “যে নিজের স্ত্রীকে ব্যক্তিগত রাগে ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ বানিয়ে দিতে পারে, সে সার্বিকভাবে কতটা নিরপেক্ষভাবে ভোটার তালিকা তৈরি করতে পারে? তা নিয়ে আমাদের যথেষ্ট সন্দেহ আছে ”

