দীর্ঘদিনের বেহাল রাস্তা মেরামতির আশায় বুক বেঁধেছিলেন তমলুক ব্লকের বাসিন্দারা। প্রধানমন্ত্রীর গ্রামীণ সড়ক যোজনার অধীনে পদমপুর–১ নম্বর পঞ্চায়েতের নিকাশি বাজার থেকে বিষ্ণুবাড় ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের হিরাপুর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগ সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হতেই এলাকায় স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করেছিল। বহুদিনের ধুলো–কাদা পেরিয়ে এবার মসৃণ পথে যাতায়াত করা যাবে— এমনটাই ভেবেছিলেন সাধারণ মানুষ।
কিন্তু সেই আশায় জল ঢেলে দিল নতুন রাস্তার মান নিয়ে ওঠা প্রশ্ন। কাজ শেষ হওয়ার মাত্র দু’দিনের মাথায় দেখা যায়, নতুন পিচ দেওয়া রাস্তার উপরিভাগ হাত দিয়েই টেনে তোলা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও পিচের স্তর উঠে গিয়ে নীচের অংশ বেরিয়ে পড়েছে। এই দৃশ্য সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয়রা।
জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে একটি ঠিকাদারি সংস্থা রাস্তার কাজটি করছিল। প্রথম পর্যায়ে পুরনো অংশ কেটে ফেলে নতুন করে পাথর বিছিয়ে তার ওপর পিচ ঢেলে রোলার চালানো হয়। সব কিছু নিয়ম মেনেই হয়েছে বলে দাবি করা হলেও বাস্তব চিত্র দেখে প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী।
নিকাশি বাজারের বাসিন্দা রঞ্জিত জানা বলেন, “বছরের পর বছর রাস্তা খারাপ ছিল। দুর্গাপুজোর পর থেকে কাজ শুরু হয়। আমরা ভেবেছিলাম এবার সমস্যা মিটবে। কিন্তু দু’দিনেই যদি পিচ উঠে যায়, তাহলে এই রাস্তা কতদিন টিকবে?”
আরেক পথচারী শেখ রহমানের কথায়, “নতুন রাস্তার এমন অবস্থা! হাত দিয়ে টানলেই পিচ উঠে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে বর্ষায় কী হবে ভাবতেই ভয় লাগছে। আমরা চাই পুরো কাজ নতুন করে হোক।”
ঘটনার ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে রাস্তার পিচের পরত আলগা হয়ে যাচ্ছে। ফলে সরকারি প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন।
অভিযোগ পাওয়ার পর জেলা প্রশাসন তৎপর হয়েছে। জেলা পরিষদের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অতিরিক্ত জেলাশাসক মানসকুমার মণ্ডল জানিয়েছেন, “অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঠিকাদার সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেখানে পিচ দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ তুলে নতুন করে কাজ করতে হবে। নিম্নমানের অংশ রাখা যাবে না।”
তবে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, শুধু পুনরায় পিচ দিলেই হবে না— পুরো নির্মাণ প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। নইলে কয়েক মাসের মধ্যেই আবার পুরনো সমস্যাই ফিরে আসবে।
এখন দেখার, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে রাস্তার মান কতটা উন্নত হয় এবং স্থানীয়দের আস্থা কতটা ফিরে আসে।

