West Bengal Pass Fail System: স্কুলে ফের পাশ-ফেল প্রথা চালু হতে চলেছে? পশ্চিমবঙ্গের স্কুলশিক্ষা ব্যবস্থায় একাধিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর ব্যক্তিগত মত, পড়ুয়াদের শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনা এবং স্কুলে মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সিলেবাস কমিটির সুপারিশ ও জাতীয় শিক্ষানীতির (NEP) বিষয়গুলি বিবেচনা করবে রাজ্য সরকার।
রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পাশ-ফেল প্রথা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সিলেবাস কমিটির সুপারিশকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে। শিক্ষা দফতরের সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অর্থাৎ, ব্যক্তিগতভাবে পাশ-ফেল প্রথার পক্ষে থাকলেও এখনই তা চালু করার চূড়ান্ত ঘোষণা করেননি মুখ্যমন্ত্রী।
শুধু পরীক্ষা পদ্ধতি নয়, স্কুলশিক্ষার সামগ্রিক কাঠামোতেও পরিবর্তনের পক্ষে সওয়াল করেছেন শুভেন্দু। তাঁর মতে, স্কুলে মোবাইল ফোনের ব্যবহার বন্ধ করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত। পাশাপাশি পড়ুয়াদের ভারত ও পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানার সুযোগ দিতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চা, শারীরিক শিক্ষা এবং নানা সহপাঠক্রমিক কার্যকলাপের উপরেও জোর দিয়েছেন তিনি।
স্কুলে ব্রতচারী কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি জাতীয় সেবা প্রকল্প (NSS) এবং ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (NCC)-এর মতো কর্মসূচি চালুর পক্ষেও মত প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে পড়ুয়াদের মধ্যে শৃঙ্খলা, সাংস্কৃতিক চেতনা ও দেশ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব।
বিদ্যালয়ের প্রাথমিক স্তর থেকেই সংগীত ও বাদ্যযন্ত্র শেখানোর উপরেও গুরুত্ব দিয়েছেন শুভেন্দু। তবলা, হারমোনিয়াম, গিটার, সেতার থেকে শুরু করে মৃদঙ্গ ও খঞ্জনির মতো বাদ্যযন্ত্র শেখার সুযোগ তৈরি করার কথা বলেছেন তিনি। পাশাপাশি প্রতি বছর অন্তত তিন দিন বিতর্ক, কুইজ এবং তাৎক্ষণিক বক্তৃতার মতো প্রতিযোগিতার আয়োজন করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর মতে, পড়ুয়াদের সার্বিক বিকাশের জন্য বইয়ের পড়াশোনার বাইরেও এই ধরনের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে রাজনৈতিক বিরোধীদের উদ্দেশে কড়া ও বিতর্কিত মন্তব্যও করেন মুখ্যমন্ত্রী। শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে পড়ুয়াদের মধ্যে জাতীয় চেতনা গড়ে তোলার কথা বলতে গিয়ে তিনি বিরোধীদের আক্রমণ করেন। তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হতে পারে।
সব মিলিয়ে, স্কুলে পাশ-ফেল প্রথা ফেরানো, মোবাইল ফোনের ব্যবহার সীমিত করা এবং সাংস্কৃতিক ও সহপাঠক্রমিক কার্যক্রম বাড়ানোর মতো একাধিক প্রস্তাব সামনে এসেছে। তবে এগুলির কোনওটিকেই এখনও চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। সিলেবাস কমিটির রিপোর্ট ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সুপারিশের পর রাজ্য সরকার কোন পথে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর অভিভাবক, শিক্ষক ও পড়ুয়াদের।





