ধূপগুড়ি: স্ত্রীর পরকীয়ার অভিযোগে গ্রামে চাঞ্চল্য। পরিণতি এমন এক দৃশ্য, যা যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। স্ত্রীকে প্রেমিকের হাতে তুলে দিয়ে, দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে দুধ ঢেলে স্নান করলেন স্বামী। এই অদ্ভুত ঘটনাটি ঘটেছে ধূপগুড়ি মহকুমার গধেয়ারকুটি গ্রাম পঞ্চায়েতের চরচড়াবাড়ি এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি কার্তিক সরকার এবং তাঁর স্ত্রী সনেকা সরকারের বিবাহ হয় প্রায় দশ বছর আগে। দুই সন্তান রয়েছে তাঁদের—একজনের বয়স ১০ বছর, অন্যজনের ৪। সুখী সংসার যেন হঠাৎ ভেঙে গেল পরকীয়ার ঝড়ে।
পরিবারের দাবি, কিছুদিন ধরে পাশের বাড়ির এক যুবকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন সনেকা। বিষয়টি ধরা পড়তেই শুরু হয় বিবাদ, মান-অভিমান, ঝগড়া। স্বামী বারবার অনুরোধ করেও স্ত্রীকে ওই সম্পর্ক থেকে দূরে রাখতে পারেননি। অভিযোগ, একাধিকবার তিনি পালিয়েও যান প্রেমিকের সঙ্গে, পরে আবার বাড়ি ফেরেন।
রবিবার, গ্রামের মানুষ সালিশি সভা ডেকে বিষয়টির মীমাংসা করতে চেয়েছিলেন। সভার সামনেই সনেকা সবাইকে জানান—তিনি আর স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে চান না, প্রেমিকের সঙ্গেই থাকতে চান। মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে যায় সভার পরিবেশ। এরপরেই কার্তিক নিজের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন—আমি স্ত্রীকে স্বেচ্ছায় প্রেমিকের হাতে তুলে দিলাম।
এরপর যা ঘটেছে, তা গ্রামবাসীরা জীবনে ভুলবেন না। স্ত্রীকে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার পর, দুই সন্তানকে নিয়ে দুধ এনে নিজের গায়ে ঢেলে “স্নান” করেন কার্তিক সরকার। তাঁর কথায়, “স্ত্রীর পরকীয়ার কথা আগেও ধরা পড়েছিল। তখন ক্ষমা করেছিলাম। কিন্তু এবার সব শেষ। আজ গ্রামবাসীদের সামনেই স্ত্রীকে ছেড়ে দিয়ে নিজেকে শুদ্ধ করলাম।”
স্থানীয়দের দাবি, পুরো ঘটনা গ্রামবাসীর সামনেই ঘটেছে। কেউ কেউ মোবাইলে সেই দৃশ্যও রেকর্ড করেছেন। এলাকায় এখন তীব্র চাঞ্চল্য। কেউ বলছেন, “এ যেন এক মানুষের মানসিক ভাঙনের প্রকাশ।” আবার কেউ বলছেন, “স্ত্রীকে সম্মান দিয়েই মুক্তি দিলেন স্বামী।”
এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। যদিও এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এই ঘটনাটি শুধুই সামাজিক বিচ্ছেদের নয়, এটি গভীর মানসিক যন্ত্রণা ও সামাজিক চাপে গঠিত এক প্রতীকী প্রতিবাদ। যেখানে এক ব্যক্তি সমাজের সামনে নিজের অপমানকে ধুয়ে ফেলতে চেয়েছেন প্রতীকীভাবে।
ধূপগুড়ির এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর থেকে গোটা এলাকায় এখন একটাই আলোচনা— “ভালোবাসা, সম্মান আর সম্পর্কের টানাপোড়েনে সমাজ কোন দিকে যাচ্ছে?”

