প্রথম দফার নির্বাচনী প্রচার শেষ হওয়ার আগে মঙ্গলবার চারটি জনসভা করে আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো Mamata Banerjee। ব্যারাকপুর ও জগদ্দলের সভা থেকে তিনি একযোগে বিজেপি, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং Election Commission of India-কে নিশানা করেন। জগদ্দলের সভায় সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে মমতার অভিযোগ, নির্দিষ্ট কয়েকটি ওয়ার্ডে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে ছাপ্পা ভোট করানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর হুঁশিয়ারি, “যেখানে গণ্ডগোল করবে, সেখানেই আমি হাজির হয়ে যাব। পারলে আমাকে আটকাও।”
অন্যদিকে ব্যারাকপুরের সভায় ডিএ বৃদ্ধি নিয়েও কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বাজেটে ঘোষিত ৪ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা কার্যকর করার ফাইল নির্বাচন কমিশন আটকে রেখেছে, যার ফলে সরকারি কর্মীরা বর্ধিত ডিএ পাচ্ছেন না। তিনি কমিশনের কাছে দ্রুত ছাড়পত্র দেওয়ার আবেদন জানান এবং আশ্বাস দেন, অনুমোদন মিললেই এপ্রিলের বেতনের সঙ্গে সেই টাকা দেওয়া হবে।
ভোট ঘিরে সম্ভাব্য অশান্তি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মমতা। তাঁর আশঙ্কা, ভোটের দিন থেকে গণনা পর্যন্ত গণ্ডগোল পাকানো হতে পারে, এমনকি ইভিএম বদলের চেষ্টাও হতে পারে বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি জগদ্দলের তৃণমূল প্রার্থী সোমনাথ শ্যামকে গ্রেপ্তারের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করে দলীয় কর্মীদের সতর্ক থাকার বার্তা দেন।
প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ভোটের দিন রাজ্যে প্রচার নিয়ে কটাক্ষ করে মমতার অভিযোগ, মানুষকে বিভ্রান্ত করতেই এই সফর। বিজেপির অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়েও পাল্টা প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা নিয়ে কেন্দ্র কী করছে, সেটাই বড় প্রশ্ন। পাশাপাশি বিজেপির ইস্তাহারে আর্থিক প্রতিশ্রুতি নিয়েও তীব্র সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে, তবে শেষ পর্যন্ত বাংলার মানুষ তৃণমূলকেই সমর্থন করবে।
নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসারকেও এদিন একহাত নেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, প্রচারে যাওয়ার অনুমতি না দিয়ে বাধা দেওয়া হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে নির্বাচন দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে আবেদন করা হয়নি। সব মিলিয়ে প্রথম দফার ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে, আর সেই আবহে মমতার এই আক্রমণাত্মক প্রচার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

