হলদিয়ার Haldia নির্বাচনী সভা থেকে নাম না করেই বিরোধী দলনেতা Suvendu Adhikari-কে তীব্র আক্রমণ করলেন Mamata Banerjee। সেই সঙ্গে মেদিনীপুরের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখাও স্পষ্ট করে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর ঘোষণা, আগামী দিনে মেদিনীপুরের দায়িত্ব থাকবে Abhishek Banerjee-এর হাতে। সভা থেকেই মমতার বার্তা, “আগামী দিনে মেদিনীপুরে অভিষেকই কাজ করবে, আমি তো থাকবই।” একইসঙ্গে শুভেন্দুকে ‘গদ্দার’ বলে কটাক্ষ করে তিনি দাবি করেন, হলদিয়া থেকে কোথায় টাকা যায়, সব তাঁর জানা।
সুতাহাটার সভায় শুরু থেকেই অধিকারী পরিবারকে নিশানা করেন মমতা। পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এক পরিবারে একাধিক সাংসদ-বিদায়ক থাকা সত্ত্বেও তৃণমূলের ক্ষেত্রে তা হয়নি। অভিষেককে নিয়ে কটাক্ষের জবাব দিতেই তিনি স্পষ্ট করে দেন, আগামী দিনে জেলার রাজনৈতিক দায়িত্ব তাঁর হাতেই তুলে দেওয়া হবে। এই ঘোষণাকে রাজনৈতিক মহল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে।
ভোট প্রক্রিয়া নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০২১ সালের নন্দীগ্রামের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, তখন লোডশেডিং করে ইভিএম লুটের চেষ্টা হয়েছিল। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। তাঁর দাবি, “এভাবে না করলে ওরা জিততে পারবে না।” পাশাপাশি নন্দীগ্রামের অতীত আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেন, সংকটের সময়ে অধিকারী পরিবার সামনে আসেনি, বরং তিনিই জীবন বাজি রেখে রাস্তায় নেমেছিলেন।
এদিন হলদিয়া থেকে তোলাবাজি ও কাটমানি নিয়েও সরব হন মমতা। তাঁর অভিযোগ, শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন সংস্থা ও পরিবহণ থেকে নিয়মিত টাকা তোলা হয় এবং সেই অর্থ কোথায় যায় তা নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত। পাশাপাশি প্রশাসনের উদ্দেশে নিরপেক্ষ ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি ভোট ও গণনার দিন সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার বার্তাও দেন।
সব মিলিয়ে, প্রথম দফার ভোটের আগে হলদিয়ার সভা থেকে একদিকে যেমন রাজনৈতিক আক্রমণ তীব্র করলেন মমতা, তেমনই অভিষেককে সামনে রেখে মেদিনীপুরের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের রূপরেখাও স্পষ্ট করে দিলেন তিনি।

