পূর্ব বর্ধমান: সাত সকালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় স্তম্ভিত মন্তেশ্বর থানা এলাকার গিরিনগর। শুক্রবার সকালেই এক যাত্রীবোঝাই বাস এবং দ্রুতগামী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে জখম অন্তত পাঁচজন। সংঘর্ষের পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবোঝাই বাসটি সরাসরি রাস্তার ধারে থাকা একটি বাড়ির মধ্যে ঢুকে যায়। মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে চাঞ্চল্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ কাইগ্রাম থেকে মেমারিমুখী একটি যাত্রীবোঝাই বাস বিপরীত দিক থেকে আসা কুসুমগ্রাম-মুখী ট্রাকের মুখোমুখি ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ হারায়। সংঘর্ষ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, বাসটি রাস্তা থেকে ছিটকে একটি বাড়ির বারান্দা ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুর্ঘটনার সময় রাস্তা প্রায় ফাঁকা থাকলেও ট্রাকটির গতি ছিল অত্যন্ত বেশি। ফলে ধাক্কা খাওয়ার পর বাসটির চালক নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি। বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীরা আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠেন।
অন্য দিকে খবর পেয়ে মন্তেশ্বর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজে নামে। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে স্থানীয়রা ও পুলিশ মিলে মন্তেশ্বর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান, দু’জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হলেও তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, গিরিনগর এলাকায় প্রায়ই অতিরিক্ত গতিতে ট্রাক চলাচল করে, অথচ রাস্তার পাশে কোনও গার্ডরেল বা ব্যারিকেড নেই। তাঁদের দাবি, এই দুর্ঘটনা প্রশাসনের উদাসীনতারই ফল।
পুলিশ ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাস ও ট্রাক দু’টিকেই আটক করেছে। চালক এবং খালাসির খোঁজে শুরু হয়েছে তল্লাশি। ঘটনার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে মন্তেশ্বর থানার পুলিশ।
এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, “অল্পের জন্য বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে, বাসটা যদি আরও একটু ভেতরে ঢুকে যেত, গোটা বাড়িটাই ধসে পড়ত।”

