‘DA, ও কর্মসংস্থান না দিলে অনুদান নয়!’: দুয়ারে দুর্গাপুজো। আর মাসখানেক পরেই রাজ্যজুড়ে ঢাকের তালে, আলোর মালায় মাতবে পুজো-পাগল বাংলা। আর তার আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা—এবছর প্রতিটি দুর্গাপুজো কমিটিকে আগের বছরে তুলনায় ২৫ হাজার টাকা করে বেশি, অর্থাৎ ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। এই ঘোষণার পরই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা।
কিন্তু অপর দিকে এই অনুদান প্রত্যাখ্যান করল বাংলার তিনটি নামী পুজো কমিটি। তালিকায় রয়েছে: উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ বিদ্রোহী ক্লাব, নদিয়ার রানাঘাটের চারের পল্লি, ও কল্যাণী রথতলার ‘ইচ্ছে তাই’ ক্লাব (আগের বছরেও অনুদান প্রত্যাখ্যান করেছিলেন)।
আরো পড়ুন- ডান্স গ্রুপের এক নৃত্যশিল্পীকে ধর্ষণের অভিযোগ তমলুকে
বিশেষত রায়গঞ্জের বিদ্রোহী ক্লাবের তরফে কড়া ভাষায় বিরোধিতা করেন প্রাক্তন বিধায়ক ও জেলা কংগ্রেস সভাপতি মোহিত সেনগুপ্ত। শুক্রবার এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাজ্যে কর্মসংস্থান নেই, সরকারি কর্মীদের DA বকেয়া, পুরসভার অস্থায়ী ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা ঠিকমতো বেতন ও পেনশন পান না। নারীদের সুরক্ষা নিয়েও বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেই। সেখানে জনগণের করের টাকায় দুর্গাপুজোর অনুদান নেওয়া অনৈতিক।” তাঁর আরও দাবি, “২০২৬ সালের বিধানসভা ভোট মাথায় রেখে এ সব হচ্ছে।”
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণাকে ঘিরে তৃণমূল সমর্থক পুজো উদ্যোক্তাদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই খুশির আবহ তৈরি হলেও বিরোধীদের একাংশ এই দুর্গা পুজোর অনুদানকে ভোটমুখী অনুদান বলেই কটাক্ষ করছেন।
তবে এই সিদ্ধান্ত যে এখন অনেক ক্লাবকে ভাবনায় ফেলছে, তা বলাই বাহুল্য। পুজো আয়োজনে খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনই এই অনুদান নেওয়া না-নেওয়া এবার রাজনীতির থেকেও বড় সামাজিক বার্তা বহন করছে—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। Follow me

