Butis borgabhimai: পূর্ব মেদিনীপুর জেলার রূপনারায়ণ নদী থেকে নতুন প্রজাতির একটি মাছ আবিষ্কার করলেন তমলুকের তাম্রলিপ্ত মহাবিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের গবেষকরা। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী জুটাক্সা-তে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে এই নতুন প্রজাতির মাছের নাম রাখা হয়েছে “বুটিস বর্গভীমি”। তমলুকের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মা বর্গভীমার নামানুসারেই এই মাছের নামকরণ করা হয়েছে। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও প্রাক্তন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রধান ডঃ তন্ময় ভট্টাচার্য্যের তত্ত্বাবধানে রূপনারায়ণ নদীর জীববৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে মাছটি আবিষ্কৃত হয় | গবেষণাটি করেছেন তাম্রলিপ্ত মহাবিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও পিজি কো-অর্ডিনেটর ডা: প্রীতিরঞ্জন পাহাড়ি এবং কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের গবেষক শুভদীপ মাইতি, সুদীপ্তা মণ্ডল ও মিতালী দাস।
গবেষকদের কথায়, ২০২২ সালের জুন মাস থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত রূপনারায়ণ নদীতে ধারাবাহিক সমীক্ষা চালানো হয়। সেই সময় স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সহযোগিতায় জাল ও অন্যান্য উপকরণের সাহায্যে কয়েকটি মাছের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। প্রথমে এগুলিকে পরিচিত কোনো প্রজাতির মাছ বলে মনে হলেও পরে বিশদভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে গবেষকরা বুঝতে পারেন, নমুনাগুলির গঠনগত বৈশিষ্ট্য অন্যান্য পরিচিত প্রজাতির সঙ্গে সম্পূর্ণ মেলে না। এরপর ল্যাবরেটরিতে মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে আকার-গঠন বিশ্লেষণ এবং ডিএনএ পরীক্ষা করার পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রজাতি।
গবেষণায় দেখা গেছে, এই মাছটি ‘বুটিস’ (Butis) গণের অন্তর্ভুক্ত। দেখতে এটি ওই গণের অন্য কয়েকটি প্রজাতির সঙ্গে কিছুটা মিল থাকলেও পাখনায় বিশেষ ধরনের ডোরা দাগ, শরীরের স্কেলের বিন্যাস এবং মাথার গঠনসহ একাধিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে এটিকে আলাদা প্রজাতি হিসেবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া জিনগত পরীক্ষায়ও এই মাছের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ধরা পড়েছে। গবেষকরা জানান, রূপনারায়ণ নদী ও তার মোহনা অঞ্চলে বহু ধরনের মাছের বসবাস রয়েছে। তবে এই নদীর মাছের বৈচিত্র্য নিয়ে এখনও বিস্তৃত গবেষণা খুব বেশি হয়নি। নতুন এই প্রজাতির আবিষ্কার সেই দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গবেষণার জন্য সংগৃহীত নমুনাগুলির একটি হোলোটাইপ ও অন্যান্য নমুনা কলকাতার জুলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার সংগ্রহশালায় সংরক্ষণ করা হয়েছে।
তাম্রলিপ্ত মহাবিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও পিজি কো-অর্ডিনেটর ডা: প্রীতিরঞ্জন পাহাড়ি বলেন, মাছটা আমরা সংগ্রহ করেছিলাম রূপনারায়ণ নদী থেকে, অন্য প্রজাতি মাছগুলি সঙ্গে আমরা সব রকম তফাৎ খুঁজে বের করি। দেখা যায় এই প্রজাতিটি আলাদা। তারপর আমরা এর ডিএনএ পরীক্ষা করতে পাঠিয়েছিলাম তামিলনাড়ুতে। এরপর সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণের পর ৫ই মার্চ নিউজিল্যান্ডের আন্তর্জাতিক জার্নাল জুটাক্সা-র সাম্প্রতিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয় এই নতুন প্রজাতির মাছের বিষয়। এটি রূপনারায় নদী থেকে পাওয়া গিয়েছে এবং যেহেতু এখানে বর্গভীমা মন্দির রয়েছে তাই এই মাছের নাম দেওয়া হয়েছে বুটিস বর্গভীমি।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সঞ্চিতা মুখার্জি চক্রবর্তী বলেন, এটা আমাদের তাম্রলিপ্ত কলেজের কাছে খুবই গর্বের বিষয়। তার সঙ্গে বর্গভীমা মায়ের নাম যুক্ত করে উনি যে মাছের নাম দিয়েছেন সেটা আমাদের আরো ভালো লাগছে। আগেও উনি অনেক গবেষণার কাজ করেছেন এবং আগামী দিনেও এইভাবে আরো নতুন কিছু গবেষণা উনি করবেন। আমাদের কলেজের তরফ থেকে সমস্ত ভাবে আমরা ওনার পাশে থাকার চেষ্টা করব। এটা আমাদের কলেজের একটা বড় সাফল্য।

