ঘাটাল: জন্মাষ্টমীর ছুটি। গোটা রাজ্যজুড়ে স্কুল-কলেজে তালা। কিন্তু পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালে দেখা গেল একেবারেই অন্য ছবি। ছুটির দিনেও খোলা স্কুল, চলছে পরীক্ষা। আর এই সিদ্ধান্তে কিন্তু খুশি অভিভাবকরা। কেন এমন উদ্যোগ? জানলে আপনিও অবাক হবেন।
পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের আড়গোড়া ১ নম্বর চাতালে অবস্থিত যোগদা সৎসঙ্গ শ্রীযুক্তেশ্বর বিদ্যাপীঠ। প্রতি বছরই বন্যার জেরে জলমগ্ন হয়ে যায় এই স্কুল। এ বছরও আলাদা কিছু হয়নি। প্রায় দু’মাস ধরে ডুবে ছিল স্কুল চত্বর। আর সেই কারণে নির্ধারিত সময়ে দ্বিতীয় পার্বিক মূল্যায়ন বা সেকেন্ড সামেটিভ ইভালুয়েশন নেওয়া যায়নি।
পর্ষদের নির্দেশ ছিল ১ থেকে ৮ অগস্টের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করার। কিন্তু তখন গোটা স্কুল আর আশেপাশের এলাকা ডুবে থাকায় পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। অনেক স্কুলে যেখানে পড়ুয়ারা নৌকোয় চেপে পরীক্ষা দিতে গিয়েছে, সেখানে ঝুঁকি নিতে চাননি এই স্কুলের শিক্ষকরা।
আরো পড়ুন- গুরুতর আহত এক বৃদ্ধাকে কোলে তুলে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স এর দিকে দৌড়ন বেলদা থানার ওসি
অবশেষে জল কিছুটা নামতেই পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নিলেন কর্তৃপক্ষ। আর সময়ের চাপ কাটাতেই ছুটির দিনগুলোকেই বেছে নেওয়া হলো। জন্মাষ্টমীর দিন, অর্থাৎ শনিবার— সরকারি ছুটির মধ্যেই স্কুলে বসল পরীক্ষা। রবিবারও পরীক্ষা চলবে। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির পড়ুয়ারা অংশ নিচ্ছে এই পরীক্ষায়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রণবেন্দ্র দে জানালেন “স্কুল তখন পুরো জলে ডুবে ছিল। নৌকা নামানো হয়েছিল। ওই পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নিলে পড়ুয়াদের প্রবল সমস্যায় পড়তে হতো। তাই প্রশাসন, শিক্ষা দপ্তর, স্কুল পরিচালন সমিতি, শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী— সবার সঙ্গে কথা বলেই আমরা ছুটির দিনে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি গর্বিত, আমার শিক্ষকরা ছুটির দিনেও দায়িত্ব নিয়ে পরীক্ষা নিচ্ছেন।”
অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া আরও স্পষ্ট। স্থানীয় অভিভাবক জগদীশ শাসমল বললেন “আমরা খুব খুশি। বাচ্চাদের পড়াশোনার স্বার্থেই পরীক্ষা ছুটির দিনে হচ্ছে। এতে তারা তৃতীয় পার্বিক পরীক্ষার আগেই প্রস্তুতি নিতে পারবে।”
মহকুমা শাসক সুমন বিশ্বাস জানান “পড়ুয়াদের কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং অভিভাবকদের সহযোগিতা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
প্রতিবছরের মতো এ বছরও বন্যার কবলে ঘাটাল। তবে শিক্ষা যাতে না থেমে যায়, তার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগকে অনেকেই ‘উদাহরণযোগ্য’ বলছেন। Follow me

