Salboni: পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে জমির আল খুঁড়তেই সামনে এল চাঞ্চল্যকর ঘটনা। মাটির নিচ থেকে উদ্ধার হল প্যাকেট প্যাকেট কার্তুজ। সোমবার সকালে শালবনির ৯ নম্বর কাশীজোড়া অঞ্চলের আশনাশুলি সংলগ্ন গামারিয়া এলাকায় এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শালবনি থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ইঁদুর ধরার জন্য জমির আল খুঁড়ছিলেন। সেই সময়ই আচমকা মাটির নিচে প্যাকেট মোড়া কিছু জিনিস দেখতে পান তাঁরা। কাছে গিয়ে দেখা যায়, সেগুলি কার্তুজ। মুহূর্তের মধ্যেই এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। স্থানীয়রাই সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি পুলিশকে জানান।
খবর পেয়ে শালবনি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মোট ১৭৯টি কার্তুজ উদ্ধার করে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া কার্তুজগুলির মধ্যে ১২২টি দেশি একনলা বন্দুকের এবং ৫৭টি এসএলআর-এর। তবে স্বস্তির বিষয়, সব ক’টি কার্তুজই অনেক পুরোনো এবং বর্তমানে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে।
পুলিশের অনুমান, উদ্ধার হওয়া কার্তুজগুলি প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বছর আগের হতে পারে। কীভাবে, কোন উদ্দেশ্যে এই কার্তুজগুলি সেখানে মাটির নিচে পোঁতা হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে শালবনি থানার পুলিশ।
জেলার পুলিশ সুপার পলাশচন্দ্র ঢালি বলেন, “কিছু পুরোনো কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। সেগুলি সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। শালবনির বাসিন্দা তথা যুব তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সন্দীপ সিংহ দাবি করেন, “যে জমির আল থেকে কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে, সেটি সিপিআইএম নেতা শুকদেব মাহাতোর জমি বলে স্থানীয়রা জানাচ্ছেন। ২০১০-১১ সালে কাশীজোড়া এলাকায় একাধিক মৃতদেহ ও কঙ্কাল উদ্ধার হয়েছিল। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।”
অন্যদিকে সিপিআইএমের জেলা সম্পাদক বিজয় পাল বলেন, “জঙ্গলমহলে হাজার হাজার সিপিআইএম কর্মী-সমর্থক খুন হয়েছেন, এটা সবার জানা। তবে এই কার্তুজ কোন সময়কার এবং কার আমলের, তা পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দেখতে হবে।”
মাটির নিচ থেকে কার্তুজ উদ্ধারের ঘটনায় আপাতত কৌতূহল ও উত্তেজনার পরিবেশ শালবনি জুড়ে। তদন্তে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে এলাকা।

