বিধানসভা নির্বাচনের আগে পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনৈতিক অঙ্কে ফের নয়া মোড়। নন্দীগ্রামে, যা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক দুর্গ হিসেবে পরিচিত, সেখানেই বিজেপি শিবিরে ধাক্কা লাগার ইঙ্গিত মিলল। কালীচরণপুর অঞ্চলের ২৪৫ নম্বর বুথে বিজেপির প্রতীকে জয়ী গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা তনুশ্রী দাস এবং ওই বুথের বিজেপি সভাপতি কালীপদ দাস তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন।
কিছুদিন আগেই ময়নায় বিজেপির নেতা চন্দন মণ্ডলের তৃণমূলে যোগদান রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন তুলেছিল। তার পর আবার নন্দীগ্রামে এই দলবদল নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
তনুশ্রী দাসের অভিযোগ, এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের দাবি জানাতে গেলে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের কাছ থেকে অসহযোগিতা ও খারাপ আচরণের সম্মুখীন হতে হয়েছে। বিষয়টি বিজেপির ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বকেও জানানো হয়েছিল বলে তাঁর দাবি। কিন্তু সেখান থেকেও সন্তোষজনক প্রতিক্রিয়া না মেলায় তিনি দলত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর বক্তব্য, “এলাকার উন্নয়ন এবং মানুষের স্বার্থে কাজ করতে চাই। তাই তৃণমূলে যোগদান।”
একই সুর শোনা গেছে কালীপদ দাসের গলায়। তিনিও দাবি করেছেন, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত।
নন্দীগ্রাম তৃণমূল কোর কমিটির সদস্য শেখ অলরাজি বলেন, “তৃণমূলের উন্নয়ন দেখেই বিজেপির কর্মী–সমর্থকরা আমাদের দলে আসছেন। শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক জমি দুর্বল হচ্ছে।”
তবে এই দলবদলকে গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি। তাঁদের দাবি, “লোভ–লালসার বশে কয়েকজন দল ছাড়লেও মূল সংগঠন অটুট রয়েছে। নন্দীগ্রামে বিজেপি আগের মতোই শক্ত অবস্থানে আছে।”
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিধানসভা ভোটের আগে এই ধরনের দলবদল উভয় দলের মনোবল ও সংগঠনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নন্দীগ্রামের মতো প্রতীকী আসনে এই পরিবর্তন তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
এখন দেখার, ভোটের আগে আরও কি এমন অদলবদল দেখা যায়, নাকি দলগুলি নিজেদের সংগঠন মজবুত করতে সক্ষম হয়। নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক সমীকরণ যে ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে, তা বলাই যায়।

