Nandigram News: নন্দীগ্রামে ফের উত্তপ্ত রেল প্রকল্প ঘিরে রাজনীতি। জমি দেওয়ার পরও প্রতিশ্রুত চাকরি না পাওয়ার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে সামিল হলেন জমিদাতাদের একাংশ। তাঁদের দাবিতে ফের থমকে গেল নন্দীগ্রাম–দেশপ্রাণ রেল প্রকল্পের কাজ।
২০১০ সালে তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম–দেশপ্রাণ রেল প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন। প্রায় ১৮ কিলোমিটার জমি অধিগ্রহণ করা হয় এই প্রকল্পের জন্য। জমিদাতা পরিবারপিছু একজনকে চাকরির প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি স্থানীয়দের।
তবে অভিযোগ, এত বছর পরও প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। পাশাপাশি বহু জমিদাতা এখনও চাকরি পাননি। গত বছরও একই দাবিতে কাজ বন্ধ করেছিলেন জমিদাতাদের একাংশ। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে কাজ শুরু হলেও প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি বলে দাবি তুলে ফের বিক্ষোভে নামেন তাঁরা।
জমিদাতা বিদ্যাবতী ভুঁইয়া ও ঝর্না অগস্তি বলেন, “আমরা জমি দিয়েছি উন্নয়নের জন্য। কিন্তু চাকরি পাইনি। রেল যদি চাকরি না দেয়, তবে জমি ফেরত দিক। সমাধান না হলে কাজ করতে দেব না।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূলের দাবি, ঘোষণামাফিক চাকরি ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন তৃণমূল নেতা, বর্তমানে বিজেপি নেতা মেঘনাদ পালের নাম উল্লেখ করে শাসকদলের অভিযোগ—চাকরি প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি হয়েছিল।
অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, জমিদাতারা তাঁদের আইনি লড়াই করছেন। তৃণমূল এই ইস্যুতে রাজনীতি করছে এবং জমিদাতাদের বিভ্রান্ত করছে।
নন্দীগ্রামের মতো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এলাকায় রেল প্রকল্প ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, রেল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন কীভাবে এই অচলাবস্থার সমাধান করে। জমিদাতাদের দাবি—প্রতিশ্রুতি পূরণ হোক, তবেই প্রকল্পের কাজ এগোবে।

