এবার থেকে নতুন করে স্কুলশিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হলে সরাসরি রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন না শিক্ষক-শিক্ষিকারা। এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। বুধবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন নিয়ম স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে বর্তমানে কর্মরত এবং ইতিমধ্যেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এই বিধি কার্যকর হবে না বলে স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে SSC-র মাধ্যমে যাঁরা শিক্ষক-শিক্ষিকা হিসেবে নিযুক্ত হবেন, তাঁরা প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারবেন না। পঞ্চায়েত, পুরসভা, বিধানসভা কিংবা লোকসভা—কোনও স্তরের নির্বাচনেই প্রার্থী হওয়ার অনুমতি থাকবে না তাঁদের। নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে এই বিধি কার্যকর করার জন্য নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট শর্ত অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
শিক্ষাব্যবস্থাকে রাজনীতির প্রভাব থেকে দূরে রাখা এবং শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ফিরিয়ে আনার যুক্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। অতীতের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বাম ও তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “প্রথমে বাম এবং পরে তৃণমূল শিক্ষাকে নষ্ট করেছে। বাংলাদেশ বানাতে চেয়েছিল। আমরা শিক্ষাকে মজবুত করতে চাইছি।”
তবে এই সিদ্ধান্তের আওতা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। যাঁরা ইতিমধ্যেই শিক্ষকতার চাকরিতে রয়েছেন এবং রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের বর্তমান অধিকার এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে না। অর্থাৎ, নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্যই বিধিনিষেধ কার্যকর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক অংশগ্রহণে বিধিনিষেধ আরোপের ফলে তাঁদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রভাবিত হতে পারে বলে সমালোচনা করা হয়েছে। ফলে রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত আগামী দিনে প্রশাসনিক ও আইনি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
এখন নজর, স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগবিধিতে কীভাবে এই শর্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে তা কার্যকর করার পদ্ধতি কী হবে।





