নিজস্ব সংবাদদাতা, সবং: পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ের মোহাঢ় গ্রামের বন্দনা পাহাড়ির জীবনে সত্তর বছর বয়সে এসে পূরণ হল দীর্ঘদিনের এক ইচ্ছে। ছোটবেলা থেকেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। কিন্তু উচ্চ মাধ্যমিকের পর বিয়ে হয়ে যাওয়ায় সংসারের দায়িত্বে সেই আগ্রহ আর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
বছরের পর বছর সংসার সামলানোর পর বৌমা ছন্দা পাহাড়ির হাত ধরে ফের আবৃত্তিচর্চায় ফিরেছেন বন্দনা। সাংস্কৃতিক চর্চার সঙ্গে যুক্ত ছন্দাই শাশুড়িকে আবৃত্তি শেখার জন্য উৎসাহ দেন। বর্তমানে নিজের বৌমার অ্যাকাডেমিতেই ছাত্রী হিসেবে আবৃত্তি শিখছেন বন্দনা।
সম্প্রতি সবংয়ের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শাশুড়ি-বৌমার এই অভিনব যুগলবন্দি নজর কেড়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘কর্ণ-কুন্তী-সংবাদ’-এ বন্দনা কুন্তীর ভূমিকায় এবং ছন্দা কর্ণের চরিত্রে আবৃত্তি করেন। তাঁদের পরিবেশনা শেষ হতেই হাততালিতে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।
শুধু রবীন্দ্রনাথ নয়, বর্তমানে নজরুল ইসলামের কবিতাও আবৃত্তি করছেন বন্দনা। ছন্দার কথায়, আবৃত্তিচর্চার সঙ্গে যুক্ত থাকলে শাশুড়ির মন ভালো থাকে এবং তিনি সক্রিয়ও থাকেন। সত্তর বছর বয়সে এসে বৌমার উৎসাহে বন্দনার এই নতুন পথচলা তাই হয়ে উঠেছে শাশুড়ি-বৌমার ভালোবাসা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার এক সুন্দর উদাহরণ।



