Dhupguri: কেরলে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন স্বামী। সংসারের হাল ধরতে বছরের বেশিরভাগ সময়ই ভিনরাজ্যে কাটে তাঁর। সেই সুযোগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এক যুবকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ। এরপর বাড়ি থেকে নগদ টাকা, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি এলাকায়। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে ধূপগুড়ি থানার পুলিশ।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ধূপগুড়ির বাসিন্দা তপু রায় দীর্ঘদিন ধরে কেরলে শ্রমিকের কাজ করেন। সেখানে থেকে নিয়মিত সংসারের খরচ পাঠাতেন তিনি। বাড়িতে ছিলেন তাঁর স্ত্রী, দুই কন্যাসন্তান এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। পরিবারের দাবি, গত কয়েক মাস ধরে ওই গৃহবধূর অধিকাংশ সময়ই মোবাইল ফোনে কাটত। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এক যুবকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় এবং পরে নিয়মিত যোগাযোগ তৈরি হয় বলে অভিযোগ।
অভিযোগ, কয়েকদিন আগে গভীর রাতে বাড়ির সকলের অজান্তে বেরিয়ে যান ওই গৃহবধূ। যাওয়ার সময় আলমারিতে রাখা স্বামীর কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের টাকা এবং পরিবারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও নিয়ে যান বলে অভিযোগ। মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড-সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পরিবার।
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয়, বাড়ি ছাড়ার সময় নিজের দুই ছোট মেয়েকে বাড়িতেই রেখে চলে যান তিনি বলে অভিযোগ। বর্তমানে শিশু দু’টির দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছেন তাঁদের ঠাকুরদা-ঠাকুমা। হঠাৎ এই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার।
ঘটনার খবর পেয়ে কেরল থেকে বাড়ি ফিরে আসেন তপু রায়। তিনি বলেন, সংসার চালানোর জন্য দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে থেকে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। কিন্তু ফিরে এসে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তা কখনও ভাবেননি। তাঁর দাবি, স্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় অন্যত্র চলে গিয়ে থাকেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত তাঁর ব্যক্তিগত। তবে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া নগদ টাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
পরিবারের পক্ষ থেকে ধূপগুড়ি থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মহিলার অবস্থান এবং অভিযোগের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হলেও পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না। পরিবারের অভিযোগের পাশাপাশি ঘটনার সমস্ত দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।





