ডেবরা: গরুর মৃত্যু জলাতঙ্কে রোগেই কিনা, তা নিশ্চিত হয়নি। তবে, সেই গরুর দুধ থেকে তৈরি প্রসাদ খাওয়ায় গ্রামবাসীদের মধ্যে জলাতঙ্কের আতঙ্ক তৈরি হয়। ফলে জলাতঙ্ক রোগের টিকা নেওয়ার জন্য লম্বা ভিড় দেখা গেল স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। চাপে পড়ে স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফেও গ্রামের ২২২ জনকেই দেওয়া হলো জলাতঙ্ক রোগের টিকা! ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার পশং গ্রামে।
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) পূর্নিমা পুজো উপলক্ষে চিঁড়ের সাথে কাঁচা দুধ মিশিয়ে প্রসাদ তৈরি করা হয় পশং গ্রামের হৃষিকেশ মাইতির বাড়িতে। সেই প্রসাদ খান পরিবারের মোট ১১ জন। হঠাৎই বৃহস্পতিবার রাতে হৃশিকেশ বাবুর বাড়ির গরু অসুস্থ হয়। তিনি স্থানীয় ডাক্তারকে ডাকেন। তিনি দেখে যানান, কি রোগ তাঁর পক্ষে বলা সম্ভব নয়।

শুক্রবার সকালে হৃশিকেশ বাবু স্থানীয় যে সমিতিতে দুধ দেন, সেখানে গিয়ে বিষয়টি জানান। সমিতি থেকে একজন পশু ডাক্তারের খোঁজ দেওয়া হয়। সেই ডাক্তারবাবুকে ফোন করলে তিনি বাড়িতে গিয়ে গরুটিকে দেখে বলেন, জলাতঙ্ক হয়েছে। ওইদিনই (শুক্রবার) রাতে গরুটি মারা যায়। পরের দিন, শনিবার গরুটিকে সমাধিস্ত করা হয়।
এরপরই গ্রামে ‘জলাতঙ্ক’ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে মাইতি পরিবারের ১১ জন ডেবরা হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন নেন। তারপরই গ্রামবাসীরা লম্বালাইন দিয়ে ছুটেন পাশের পশং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে৷ সেখানেই প্রায় ২২২ জনকে ভ্যাকশিন দেওয়া হয়। যদিও, গ্রামের সকলেই সুস্থ আছেন। গ্রামবাসীদের দাবি, গ্রামের অনেকেই ওই গরুর দুধ খেয়েছেন। এমনকি রাসপূর্নিমার সময় গ্রামের সবাই ওই গরুর দুধ থেকে তৈরি প্রসাদই খেয়েছিলেন।

স্বাস্থ্য দপ্তরের বক্তব্য, গরুর দুধ থেকে জলাতঙ্ক ছড়ায়, এখনও অবধি তেমন কোনও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এমনকি, গরুটির মৃত্যুও জলাতঙ্ক রোগেই কিনা নিশ্চিত নয়। নেহাতই আতঙ্ক থেকে টিকা নেওয়ার হিড়িক! জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকারিক সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গী বলেন, ‘গ্রামবাসীরা আতঙ্কিত হয়ে শনিবার ডেবরা হাসপাতালে ভিড় করেন। তাঁদের বোঝানো যায়নি। সেজন্যই স্থানীয় পশং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকার ব্যবস্থা করা হয়।’

