Gangasagar Mela 2026: মেসি-কাণ্ডের জেরে রাজ্য সরকারের বড়সড় অবস্থান পরিবর্তন। গঙ্গাসাগর মেলায় আর ‘ভিআইপি সংস্কৃতি’ চলবে না—সাফ জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিয়োনেল মেসির অনুষ্ঠানে চরম বিশৃঙ্খলা ও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ থেকে শিক্ষা নিয়েই এই কড়া সিদ্ধান্ত বলে নবান্ন সূত্রে খবর।
সোমবার নবান্নে গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৬-এর প্রস্তুতি বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দেন, মেলায় কোনও ভিআইপি বা মন্ত্রী-নেতার জন্য যেন সাধারণ পুণ্যার্থীদের যাতায়াতে বিন্দুমাত্র অসুবিধা না হয়। ভিড়ের মধ্যে আলাদা সুবিধা, প্রোটোকল কিংবা বিশেষ ব্যবস্থা—কোনও কিছুই বরদাস্ত করা হবে না। বৈঠকে উপস্থিত মন্ত্রীদের সামনেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভিআইপি কালচার চলবে না।”
নবান্নের অন্দরের মতে, যুবভারতীতে মেসিকে দেখতে না পেয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনার পর রাজ্য প্রশাসনের উপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা মাথায় রেখেই মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তা। ওই ঘটনার জন্য রাজ্যের দুই মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও সুজিত বসুকে ঘিরে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই গঙ্গাসাগর মেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের আরও সংযত ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গঙ্গাসাগর মেলায় এবার পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ড্রোন ও সিসিটিভি নজরদারি, রিস্ট ব্যান্ড ও আইডি কার্ড চালু করা হবে। পাশাপাশি সাড়ে তিন হাজার প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন থাকবে। সব পুণ্যার্থীর জন্য বিমার ব্যবস্থাও থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও নির্দেশ দিয়েছেন, ১২ জানুয়ারির মধ্যে মন্ত্রীদের নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় পৌঁছতে হবে। মেলায় পরিবহণের জন্য ২৫০০ বাস, ২৫০ লঞ্চ এবং ২১টি জেটি চালু রাখা হবে। জনস্বাস্থ্য, পূর্ত, বিদ্যুৎ-সহ সব দফতরকে সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, আগামী ১০ থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে গঙ্গাসাগর মেলা। ১৪ জানুয়ারি পৌষ সংক্রান্তির দিন মূল পুণ্যস্নান। প্রতি বছর দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী গঙ্গাসাগরে আসেন। এবার যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেই লক্ষ্যে আগেভাগেই ‘ভিআইপি সংস্কৃতি’ বন্ধ করে সাধারণ মানুষের সুরক্ষাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে চাইছে রাজ্য সরকার।

