Dhupguri: আধার কার্ডের সমস্যার সমাধান করতে জনকল্যাণ শিবিরে গিয়েছিলেন। তারপর থেকেই নিখোঁজ ২৪ বছরের এক গৃহবধূ। দু’দিন কেটে গেলেও তাঁর কোনও সন্ধান মেলেনি। এদিকে তদন্তে উঠে এসেছে নতুন তথ্য। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার পর ওই গৃহবধূর মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান ধরা পড়েছে বিহারের কিষাণগঞ্জে। সেই তথ্য সামনে আসতেই ঘটনাকে ঘিরে ধূপগুড়ি এলাকায় উদ্বেগ বাড়ছে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড় আলতাগ্রাম ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঢ্যাংকালী এলাকার বাসিন্দা বিপ্লব সরকারের স্ত্রী রত্না রায় (২৪) গত ১৭ জুন বাবার বাড়ি ধূপগুড়ির ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আসেন। পরদিন সকালে আধার কার্ড সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের জন্য ধূপগুড়ি বিডিও অফিস চত্বরে আয়োজিত জনকল্যাণ শিবিরে যান। পরিবারের দাবি, সেখানেই শেষবার তাঁকে দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকেই তাঁর সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
দিনভর অপেক্ষার পরও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। আত্মীয়-স্বজন এবং পরিচিতদের বাড়িতে খোঁজ করেও কোনও সন্ধান না মেলায় ধূপগুড়ি থানায় নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করেন রত্নার বাবা উপেন রায়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
তদন্তে রত্নার মোবাইল ফোনের অবস্থান খতিয়ে দেখা হয়। পুলিশ সূত্রে দাবি, মোবাইলের সর্বশেষ লোকেশন বিহারের কিষাণগঞ্জ এলাকায় ধরা পড়েছে। তবে ওই ফোন এখনও রত্নার কাছেই রয়েছে, নাকি অন্য কারও হাতে পৌঁছেছে, তা স্পষ্ট নয়। কীভাবে ধূপগুড়ি থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফোনটির অবস্থান বিহারে পৌঁছল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
পরিবারের দাবি, রত্নার চার বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। মাকে না পেয়ে শিশুটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, রাতে ঘুমের মধ্যেও সে মাকে খুঁজছে। পরিবারের তরফে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, শিশুটির বাবা তার খোঁজখবর তেমনভাবে নেন না।
ধূপগুড়ি থানার পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ গৃহবধূর সন্ধানে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মোবাইল ফোনের অবস্থান, সম্ভাব্য যাতায়াতের পথ এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগোচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।





