সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করতে নেমে মর্মান্তিক পরিণতি! পশ্চিম মেদিনীপুরের মোহনপুরে ট্যাঙ্কের ভিতরে একে একে মৃত্যু হল চারজনের। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন একই পরিবারের তিন সদস্য এবং তাঁদের এক প্রতিবেশী। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ট্যাঙ্কের ভিতরে জমে থাকা গ্যাসের প্রভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত নয়। বুধবার মোহনপুর থানা এলাকার বাদশাপুর গ্রামের এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম বদির মল্লিক (৪৫), তাঁর বোন নাজেরা বিবি (৩৮), নাজেরার ছেলে শেখ রবিউল (২৫) এবং প্রতিবেশী শেখ শোয়েব (২৭)। স্থানীয় সূত্রে খবর, মোহনপুর ব্লকের শিয়ালসাই গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত আঁতলা এলাকার কাছে বাদশাপুর গ্রামে শেখ ফারজানের বাড়িতে সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কারের কাজ চলছিল। বদির পেশায় মিস্ত্রি ছিলেন এবং সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কারের কাজও করতেন।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ট্যাঙ্ক পরিষ্কারের কাজ করার সময় ভিতরে পড়ে থাকা একটি কাঠের পাটাতন তুলতে নীচে নামেন বদির। কিন্তু ভিতরে নামার পর তিনি আর উপরে উঠতে পারেননি। সেই সময় তাঁর বোন নাজেরা কাছেই ছিলেন। দাদাকে বিপদে পড়তে দেখে তাঁকে উদ্ধারের জন্য ট্যাঙ্কে নামেন নাজেরাও। কিন্তু তিনিও আর উঠে আসতে পারেননি।
এরপর মাকে ও মামাকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে ট্যাঙ্কের ভিতরে নামেন নাজেরার ছেলে রবিউল। তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠতে দেখে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন প্রতিবেশী শেখ শোয়েব। কিন্তু তিনিও ট্যাঙ্কের ভিতরে জ্ঞান হারান। এভাবেই একের পর এক চারজন বিপদের মুখে পড়েন।
প্রতিবেশী রুবেল শেখের বক্তব্য, একজনকে বাঁচাতে গিয়ে পরপর অন্যরাও বিপদে পড়েন এবং চারজনের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মোহনপুর থানার পুলিশ। চারজনকে স্থানীয় বাগদা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করা হয় বলে জানা গিয়েছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য দেহগুলি খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সেপটিক ট্যাঙ্কের ভিতরে জমে থাকা গ্যাসের কারণে শ্বাসকষ্ট বা অচেতন হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে ট্যাঙ্কের ভিতরে ঠিক কী ধরনের গ্যাস ছিল এবং সেটিই মৃত্যুর কারণ কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্তের পরেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
একই ঘটনায় চারজনের মৃত্যুতে বাদশাপুর গ্রামে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। বিপদে পড়া একজনকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে একের পর এক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় হতবাক স্থানীয় বাসিন্দারা। এই দুর্ঘটনা ফের মনে করিয়ে দিল, সেপটিক ট্যাঙ্কের মতো বদ্ধ জায়গায় বিষাক্ত গ্যাস বা অক্সিজেনের ঘাটতি প্রাণঘাতী হতে পারে। যথাযথ নিরাপত্তা ও প্রশিক্ষণ ছাড়া এমন জায়গায় প্রবেশ করা অত্যন্ত বিপজ্জনক।





