বালিচক উৎসব: সোমবার সন্ধ্যা নামতেই উৎসবের আলোয় ঝলমল করে উঠল পশ্চিম মেদিনীপুরের বালিচক। আবেগঘন পরিবেশে আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হল ২৪তম আদি বালিচক উৎসবের। প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি প্রতিভা মাইতি। তাঁর হাত ধরে প্রদীপ জ্বলার সঙ্গে সঙ্গেই যেন প্রাণ ফিরে পেল বালিচকের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মানুষের দীর্ঘদিনের আবেগ।
উদ্বোধনী সন্ধ্যায় উপচে পড়া ভিড়ে রীতিমতো জনসমুদ্রে পরিণত হয় বালিচক চত্বর। উৎসবের আমেজে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দ আর উচ্ছ্বাস। বালিচক স্কুল মাঠ তখন যেন এক রঙিন মেলার চেহারা নেয়, যেখানে শিল্প-সংস্কৃতির টানে ভিড় জমিয়েছেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ।
এই উৎসবের মধ্যেই আরও এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী থাকল বালিচক। স্কুল চত্বরে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন করেন রাজ্যের মন্ত্রী মানস ভূঁইয়া। বিদ্যাসাগরের মূর্তি উন্মোচনের মাধ্যমে উৎসবের সঙ্গে জুড়ে গেল শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের এক গভীর বার্তা। উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা বলেন, বালিচকের মতো জায়গায় বিদ্যাসাগরের মূর্তি আগামী প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

এই বৃহৎ সাংস্কৃতিক আয়োজন সফলভাবে বাস্তবায়িত করার নেপথ্যে যাঁর ভূমিকা সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, তিনি হলেন প্রদীপ কর। তাঁর নেতৃত্ব ও নিরলস পরিশ্রমেই এই উৎসব এমন সুসংগঠিত রূপ পেয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। আয়োজকদের সমন্বয়, শিল্পীদের উপস্থিতি এবং দর্শকদের স্বাচ্ছন্দ্য—সব দিকই ছিল নজরকাড়া।
আগামী নয় দিন ধরে গান, নৃত্য, নাটক ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুখর থাকবে বালিচক। রাজ্য ও জেলার নামজাদা শিল্পীদের উপস্থিতিতে এই উৎসব প্রাঙ্গণ পরিণত হবে এক প্রকৃত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়। উৎসবের প্রথম সন্ধ্যাতেই স্পষ্ট, আদি বালিচক উৎসব শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়—এটি বালিচকের মানুষের পরিচয়, গর্ব আর ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি।



