SIR News: তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সোমবারের বৈঠক কার্যত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ছড়িয়েছে—এসআইআর প্রক্রিয়ায় ১০০ শতাংশ এনুমারেশন ফর্ম জমা পড়তেই হবে। এই দিন তিনি প্রায় ২৫ হাজার নেতা–কর্মীকে নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দলীয় পদ ধরে রাখতে চাইলে এই কাজেই নিজের দক্ষতা দেখাতে হবে। এই অতিরিক্ত চাপের নেপথ্যে আছে বহুস্তরীয় রাজনৈতিক নেতা।
তৃণমূল সূত্রে খবর—অভিষেক জানেন, মৃত ভোটার, স্থানান্তরিত নাম বা একাধিক জায়গায় নাম থাকা ভোটারের কারণে ১০০ শতাংশ ফর্ম জমা কোনো দিন বাস্তবে সম্ভব না। তবুও তিনি এই লক্ষ্যমাত্রা বেঁধেছেন কারণ তিনি নির্বাচন কমিশনকে চাপে রাখার জন্য। ফর্ম জমার সংখ্যা যত বাড়বে, ততই শুনানি পর্যায়ে প্রচুর কেস তৈরি হবে, আর তৃণমূলের বক্তব্য—এটাই বিরোধীদের ‘বাংলাদেশি–রোহিঙ্গা’ অভিযোগকে রাজনৈতিকভাবে ভোঁতা করে দেবে। শাসকদলের হিসাব—যে পরিমাণ মানুষ নথিহীন, তাঁদের ফর্ম জমা পড়লে দ্বিতীয় পর্যায়ের শুনানিতে সেই চাপ কমিশনের দিকেই যাবে।
এই লক্ষ্য সফল করতে প্রতিটি জেলা–জেলায় পাঠানো হয়েছে ১৩ জন করে নেতাকে, যারা মাঠে নেমে দেখবেন বুথ লেভেলের কাজ ঠিকঠাক হচ্ছে কিনা। কারণ অভিষেকের মতে, প্রথম পর্যায়ে ফর্ম জমা না হলে দ্বিতীয় পর্যায়ের শুনানির সুযোগই থাকবে না। এই পর্যায়ে সরকারের ভূমিকাও জরুরি—মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই বলেছেন, যাদের নথি নেই, তাঁদের জন্য সরকার শিবির করে নথি তৈরি করবে। তাই যত বেশি ফর্ম জমা হবে, সরকারও তত আগেভাগে প্রস্তুতি নিতে পারবে।
এমনকি তৃণমূলের একাংশের দাবি—নথিহীন বিজেপি ভোটারদেরও যদি সরকার নথি বানিয়ে দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে সেই ভোটারদের একটা অংশের মনোভাব বদলাতেও পারে। এই প্রক্রিয়ার ফলে মাঠে নিচুতলার সংগঠনও অনেক বেশি সক্রিয় হচ্ছে। অভিষেক স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন—যারা বুথে গিয়ে ফর্ম জমা করাতে পারবেন, তারাই ভবিষ্যতে দলে গুরুত্ব পাবেন। ফলে তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব এখন ঘরে বসে নেই, জনসংযোগে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।
অভিষেক বৈঠকে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন যে বুথস্তরে কাজ হলেও সেই তথ্য সময়মতো দলের ডিজিটাল সিস্টেমে পৌঁছচ্ছে না। তাই ১০০ শতাংশ ফর্ম জমার নির্দেশ আসলে তৃণমূলের নিজের ডেটাবেস শক্ত করারও কৌশল। কারণ পরের পর্যায়ে কমিশনের সঙ্গে আইনি বা রাজনৈতিক সংঘাত হলে এই ডেটাই হবে অস্ত্র। সব মিলিয়ে তৃণমূলের অন্দরমহলে পরিষ্কার—এসআইআর শুধুমাত্র ভোটার তালিকা সংশোধন নয়, এটা ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ভিত্তি তৈরি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিয়েছেন—যারা মাঠে নামবে, তারাই আগামী দিনের নেতৃত্বে জায়গা পাবে। তাই ১০০ শতাংশ এনুমারেশন ফর্ম জমার টার্গেট আসলে সংগঠনকে নড়ে–চড়ে বসানোর এক কৌশলগত পরীক্ষা।

