নিজস্ব প্রতিনিধি, খড়গপুর/ঝাড়গ্রাম: ব্যাংক জালিয়াতি, মানি লন্ডারিং এবং জমি দখলের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে গত ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ‘রশ্মি গ্রুপ’-এর বিভিন্ন দপ্তর ও কারখানায় সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। দিল্লি থেকে আসা ইডির একটি বিশেষ টিমের সঙ্গে কলকাতার গোয়েন্দারা হাত মিলিয়ে এই মেগা অপারেশন শুরু করেছেন।
সূত্রের খবর, ঝাড়গ্রামের জিতুশোলে অবস্থিত ‘ওড়িশা স্টিল অ্যান্ড পাওয়ার’ এবং রশ্মি গ্রুপের অন্যান্য কারখানায় একযোগে হানা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল। এছাড়াও খড়গপুরে এই সংস্থার একাধিক অফিসে রাতভর তল্লাশি চালানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে বহু নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা।
রশ্মি গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা যাচ্ছে:
জমি দখল: অবৈধভাবে সরকারি জমি এবং বনদপ্তরের জমি (ফরেস্ট ল্যান্ড) হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি আদিবাসী বা এসটি-দের জমিও ভুয়া কাগজের মাধ্যমে দখল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ব্যাংক জালিয়াতি: জমি জালিয়াতির পর ভুয়া কাগজপত্রের ভিত্তিতে জমির মূল্যায়ন (Valuation) বহুগুণ বাড়িয়ে দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে কয়েকশ কোটি টাকা লোন নেওয়া হয়েছে।
মানি লন্ডারিং ও হাওয়ালা: ব্যাংক থেকে নেওয়া এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কৌশলে ‘হাওয়ালা’ মারফত বিদেশে পাচার করার প্রমাণ প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
অন্যান্য মামলা: সংস্থাটির বিরুদ্ধে অবৈধ বালি পাচার ছাড়াও ফেরা (FERA) ও ফেমা (FEMA) আইন লঙ্ঘনের একাধিক মামলা রয়েছে।
ইডির এই তৎপরতায় খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, জঙ্গল ধ্বংস করে এবং সাধারণ মানুষের জমি দখল করে এই সংস্থা দিনের পর দিন বেআইনি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্ত শুরু হওয়ায় তাদের দাবি, দেশের টাকা বিদেশে পাচার করা এই বড় দুর্নীতির মূল শিকড় যেন উপড়ে ফেলা হয় এবং দোষীরা উপযুক্ত শাস্তি পায়।
বর্তমানে কারখানা ও অফিস চত্বরে কড়া নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। তল্লাশি শেষে এই দুর্নীতির জাল কতদূর বিস্তৃত, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাবে কেন্দ্রীয় সংস্থা।

