পূর্ব মেদিনীপুর: টানা পনেরো বছর ধরে শিক্ষকতা। প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক থেকে হাইস্কুলের শিক্ষকতায় পদোন্নতি — কিন্তু তারপরই চাকরিহারা! সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ বাতিল হলে অনেকের মতোই চাকরি হারান পাঁশকুড়ার কার্তিক আদক। তবে এবার ফের মিলল আশার আলো — আদালতের নির্দেশ মেনে তিনি ফিরে এলেন তাঁর পুরোনো প্রাথমিক স্কুলেই।
শুক্রবার পর্যন্ত পূর্ব মেদিনীপুরের চাকরিহারা ৩৮ জন শিক্ষককে প্রাথমিকের নিয়োগপত্র দিয়েছে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ। তাঁদের মধ্যেই রয়েছেন কার্তিক আদক। তিনি পাঁশকুড়ার চাকদহ গ্রামের বাসিন্দা। ২০০৪ সালে প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন, পরে ২০১১-য় তমলুক দক্ষিণ চক্রের উত্তর হরশঙ্কর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হন।
২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় পাশ করে নবম-দশমের শিক্ষক হিসেবে নতুন দায়িত্ব নেন। কিন্তু ২০১৯-এ হাইস্কুলে যোগ দিয়েও ২০২০ সালের শেষে চাকরি হারাতে হয়। এরপর নতুন করে পরীক্ষা দিলেও আদালতের নির্দেশেই প্রাথমিক বিভাগে ফিরলেন তিনি। শুক্রবার জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ থেকে প্রধান শিক্ষকের নিয়োগপত্র হাতে পান কার্তিক। শনিবার তিনি যোগ দিচ্ছেন তমলুক দক্ষিণ চক্রের কষ্টিবাড় তফসিল স্পেশাল প্রাইমারি স্কুলে।
কার্তিক বলেন, “রাজ্যের চাকরিহারা শিক্ষকদের মধ্যে সম্ভবত আমিই একমাত্র প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক ছিলাম। আবারও প্রধান শিক্ষকের পদ ফিরে পেয়ে আমি অত্যন্ত খুশি।”
জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানান, “সমস্ত নথি যাচাই করে ৩৮ জন চাকরিহারা শিক্ষককে তাঁদের পুরোনো চাকরিতে ফেরার নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। যাঁরা আসতে পারেননি, তাঁদের কাছে ডাকযোগে পাঠানো হবে।”
অন্যদিকে পশ্চিম মেদিনীপুরে ৮০ জন প্রাথমিক শিক্ষক পুনর্বহালের প্রক্রিয়া চলছে। জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান অনিমেষ দে জানিয়েছেন, সোমবারের মধ্যেই সব নিয়োগপত্র বিতরণ শেষ হবে। ঝাড়গ্রামেও ৩৭ জন আবেদনকারীর মধ্যে ইতিমধ্যেই ১৪ জন তাঁদের পুরোনো স্কুলে ফিরেছেন।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরিহারা শিক্ষকদের পুরোনো পদে ফেরার সুযোগ তৈরি হওয়ায় শিক্ষামহলে দেখা দিয়েছে স্বস্তির হাওয়া। দীর্ঘ দেড় বছরের অনিশ্চয়তার পর অবশেষে হাসি ফুটেছে শতাধিক পরিবারের মুখে।

