মেদিনীপুর: সূর্য ডোবার পরও তাঁদের হাতের তৈরি আলো এখন ছড়িয়ে পড়ছে রাজ্যের সীমানা ছাপিয়ে অন্য রাজ্যেও। পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনের গ্রামীণ মহিলাদের সেই আলো আজ আত্মনির্ভরতার প্রতীক। কখনও সংসারের কাজ, কখনও সন্তানদের লালন–পালন—সব কিছু সামলে সোলার লাইট ও এলইডি বাল্ব তৈরিতে নজির গড়েছেন দাঁতনের একদল মহিলা। তাঁদের পরিশ্রম ও সাফল্যের গল্প আজ গ্রামীণ নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক হয়ে উঠছে।
দাঁতন ১ নম্বর ব্লকের কাঁকড়াজিৎ, বেশদা, গণপাড়া ও কাজিপাড়া গ্রামের মহিলারা মিলে ২০০৯ সালে গঠন করেছিলেন ‘রঘুনাথ স্বনির্ভর গোষ্ঠী’। প্রথমে ছোটো পরিসরে নানা হস্তশিল্পের কাজ করলেও, ২০১৭ সালে এই গোষ্ঠীর দুই সদস্যা মমতা প্রধান মহাপাত্র ও সুষমা মহাপাত্র কলকাতা সেবা কেন্দ্রের উদ্যোগে সোলার লাইট ও এলইডি বাল্ব তৈরির বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন।
প্রশিক্ষণ শেষে তাঁরা গ্রামের অন্য মহিলাদেরও হাতে-কলমে কাজ শেখাতে শুরু করেন। প্রথমে মাত্র তিন লক্ষ টাকার ঋণ নিয়ে শুরু হয়েছিল এই উদ্যোগ। তারপরই সাফল্যের গল্প লেখা শুরু হয় দাঁতনের মাটিতে। গোষ্ঠীর তৈরি বাল্ব ও লাইট স্থানীয় বাজারে যেমন জনপ্রিয় হয়, তেমনই বড় অর্ডারও আসে কলকাতা সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে।
অল্প দিনের মধ্যেই উত্তরাখণ্ড থেকে দশ হাজার এলইডি বাল্ব তৈরির অর্ডার পান তাঁরা। সেই চাহিদা পূরণ করতে দাঁতনের মহিলারা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আনন্দধারা প্রকল্পের মাধ্যমে আরও দশ লক্ষ টাকা ঋণ নেন।
বর্তমানে দাঁতনের কাঁকড়াজিৎ, বেশদা, গণপাড়া ও কাজিপাড়ায় চারটি পৃথক সেন্টার খুলে একাধিক মহিলা প্রতিদিন এই উৎপাদনে যুক্ত আছেন। তাঁদের তৈরি সোলার লাইট ও এলইডি বাল্ব এখন কেবল পশ্চিমবঙ্গেই নয়, পৌঁছে যাচ্ছে ওডিশা ও উত্তরাখণ্ডের বাজারেও।
গ্রামীণ মহিলাদের এই উদ্যোগ শুধু অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার দিকেই নয়, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারেও এক নতুন দিশা দেখাচ্ছে।
আজ দাঁতনের এই সাফল্যের গল্প প্রমাণ করছে — সঠিক প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহায়তা ও ইচ্ছাশক্তি থাকলে গ্রামের মেয়েরাও আলোকিত করতে পারে গোটা দেশ।

