পাঁশকুড়া: পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার মেচগ্রামে দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল এপিএল মেটালিক্স কারখানাটি যেন আজ নীরব একটা স্মৃতিস্তম্ভ! ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সিসা উৎপাদনের জন্য পরিচিত এই কারখানায় আজ নেই মেশিনের শব্দ, নেই শ্রমিকদের ব্যস্ততা—১৪ মাস ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ উৎপাদন।
কর্তৃপক্ষ বারবার আশ্বাস দিয়েছে “চালু হবে”, কিন্তু প্রতিবারই আশার আলো আঁধারে মিলিয়ে গেছে। এদিকে রোদ–জলে নষ্ট হচ্ছে কয়েক কোটি টাকার দামি যন্ত্রাংশ। বড় বড় গুদামঘর, যা একসময় ছিল গরম চুল্লির উত্তাপে ভরা, আজ সেখানে ঠাণ্ডা বাতাস ছাড়া কিছুই নেই।
কারখানা বন্ধ হওয়ার ফলে ভাঙছে ৭০০ পরিবার—৩৫০ জন স্থায়ী শ্রমিক এবং আরও ৩৫০ জন অস্থায়ী শ্রমিক মাসের পর মাস রোজগারহীন। বহু পরিবারে দু’বেলা ভাতের যোগাড়টুকু করাই এখন দুঃস্বপ্ন। অনেক শ্রমিক বাধ্য হয়ে অন্য কাজ করছেন—কেউ দিনমজুরি, কেউ সিকিউরিটি গার্ড, কেউ আবার রাজমিস্ত্রির সহকারী।
কারখানার জন্মলগ্ন থেকে কাজ করা রবি চক্রবর্তী চোখে জল নিয়ে বলেন— “৩০ বছর জীবন দিলাম এই কারখানায়। আজ পরিবারের সামনে মুখ দেখাতে পারি না। বাচ্চারা স্কুল ছেড়ে দিয়েছে। খাবার জোটে না, পড়াশোনা করব কী দিয়ে?”
কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় শুরু হয়েছে চুরির উপদ্রব। চুরি হচ্ছে লক্ষাধিক টাকার যন্ত্রাংশ। মালিকপক্ষ শ্রমিকদেরই পাহারা দিতে বলেছিল মাত্র ৪০০০ টাকার বিনিময়ে। শ্রমিকরা নিরুপায় হয়ে রাজিও হয়েছিলেন, কিন্তু সেই টাকাটাও আর পাননি।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্ষোভ বাড়ছিল। অবশেষে শ্রমিকরা কারখানার গেটের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁদের প্রশ্ন— “রাজ্যে শিল্প আনতে মুখ্যমন্ত্রী বারবার আশ্বাস দেন। তাহলে তাঁর রাজ্যেই কেন ১৪ মাস ধরে কারখানা বন্ধ?”
উৎপাদন চালু না হলে আগামী দিনে আরও কঠিন অবস্থার মুখে পড়তে হবে শ্রমিকদের পরিবারকে। তাই তাঁদের একটাই আবেদন— “মুখ্যমন্ত্রী আমাদের কথা শুনুন। এই কারখানা চালু করুন। ৭০০ পরিবার বাঁচান।”

