BJP: বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হচ্ছে। এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো একটি মন্তব্যকে সামনে এনে কটাক্ষ করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। একসময় বিজেপি ভেঙে যাবে বলে যে দাবি করেছিলেন অভিষেক, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই মন্তব্যই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবহার করলেন দিলীপ।
বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “ভাইপো বলেছিল দরজা খুলে দিলে বিজেপি থাকবে না। আমাদের দরজা বন্ধ আছে, তাতেই দলটার এই অবস্থা হয়েছে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি নেতৃত্ব ‘আব কি বার, ২০০ পার’ স্লোগান তুলেছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিকবার বাংলায় প্রচারে এসেছিলেন। কিন্তু ফলপ্রকাশের পর বিজেপি প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি। সেই সময় বিজেপিকে কটাক্ষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “খুব তো বলেছিল আব কি বার ২০০ পার! কী হল? সত্তরে থেমে গেল তো! বিজেপি নেতারা তো লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে তৃণমূলে ঢুকবে বলে। আমি তো গেট বন্ধ করে রেখেছি। গেট খুললে তো সব উড়ে যাবে।”
অভিষেকের সেই মন্তব্য সে সময় রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট আলোচিত হয়েছিল। পরবর্তীকালে কয়েকজন বিজেপি নেতা-কর্মী তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় সেই মন্তব্যকে ঘিরে আরও আলোচনা তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর দলের অন্দরে একাধিক নেতা প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। জেলা সভাপতি থেকে মুখপাত্র— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন। সংগঠনের ভিতরে নানা প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। সেই আবহেই দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এদিন শুধু অভিষেক নন, তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা ফিরহাদ হাকিমকেও আক্রমণ করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, “হাকিম মমতার হাত ছেড়ে ঋতব্রতের হাত ধরেছেন। হিন্দু ও মুসলিম— দুই সমাজকেই ধোঁকা দেওয়া হয়েছে। না হলে হুমায়ুন কবীর দল ছাড়তেন কেন?”
যদিও দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যের বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে বক্তব্যের লড়াই আগামী দিনে আরও তীব্র হতে পারে। বিশেষ করে অতীতের বিভিন্ন মন্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থানকে সামনে এনে দুই পক্ষই একে অপরকে চাপে ফেলার চেষ্টা করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।





