চন্ডিপুরের প্রশাসনিক পরিমণ্ডলে ফের রাজনৈতিক উত্তাপ। তিন বিএলওর (Booth Level Officer) তৃণমূল ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তুলে সরানোর দাবি জানাল চন্ডিপুরের বিজেপি নেতৃত্ব। সরাসরি বিডিওর কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়তেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা।
বিজেপির অভিযোগ, চন্ডিপুর বিধানসভার অন্তর্গত ১৬৭, ১৯০ এবং ২৫৬ নম্বর বুথের বিএলও— যথাক্রমে জয়ন্ত মান্না, অশোক কুমার বারি এবং প্রণব শংকর করণ— প্রত্যক্ষভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় কর্মী। তাঁদের মধ্যে কেউ বুথ সভাপতি, কেউ আবার স্থানীয় তৃণমূল নেতার ঘনিষ্ঠ।
চন্ডিপুর বিধানসভার বিজেপি সমবায় সেলের কনভেনর অংশুমান মান্না বলেন, “নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যাঁরা দায়িত্বে আছেন, তাঁদের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু চন্ডিপুরে এই তিন বিএলও প্রকাশ্যে তৃণমূলের হয়ে কাজ করছেন। আমরা চাই, অবিলম্বে এদের সরিয়ে নিরপেক্ষ কর্মী নিয়োগ করা হোক।”
অভিযোগের সঙ্গে বেশ কয়েকটি ছবি ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টও সংযুক্ত করেছে বিজেপি। তাঁদের দাবি, প্রমাণ দিয়েই তাঁরা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
তবে অভিযুক্ত তিন বিএলও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের মধ্যে একজন বলেন, “আমি আগে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। তখন তো কেউ কিছু বলেনি! এখন আমি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছি, তাই অভিযোগ উঠছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের নিযুক্ত কর্মী, রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থাকাই আমাদের কর্তব্য।”
চন্ডিপুরের বিডিও কল্লোল সরকার বলেন, “আমি সদ্য দায়িত্ব নিয়েছি। বিষয়টি জানি না, তবে খোঁজ নিচ্ছি। অভিযোগের ভিত্তিতে যা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিজেপির অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক নাটক’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক বলেন, “একজন সরকারি কর্মী কারও রাজনৈতিক বিশ্বাস রাখতেই পারেন, কিন্তু সেটা বলে দেওয়া বা বিচার করা বিজেপির কাজ নয়। ওরা এখন কাজ না পেয়ে সমালোচনা করাই অভ্যেস করে ফেলেছে।”
চন্ডিপুরের এই ঘটনার জেরে প্রশাসনিক মহলেও প্রশ্ন উঠেছে— নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত কর্মীদের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে?
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, চন্ডিপুরের এই বিতর্ক আসন্ন নির্বাচনের আগে বিজেপি ও তৃণমূল উভয় দলের মধ্যেই নতুন রাজনৈতিক তাপমাত্রা সৃষ্টি করেছে। একপক্ষ যেখানে নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলছে, অন্যপক্ষ সেটাকেই বিজেপির “রাজনৈতিক প্রপাগান্ডা” হিসেবে দেখছে।

