নিজস্ব সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: গা ছমছমে অন্ধকার রাত। কিন্তু গ্রামের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে জ্বলছে টর্চের আলো। হাতে বাঁশ ও লাঠি নিয়ে সতর্ক পাহারায় বসেছেন যুবকেরা। ঝাড়গ্রামের (Jhargram) মানিকপাড়া থেকে সাঁকরাইল কিংবা গোপীবল্লভপুর— গত কয়েকদিন ধরে এমনই চেনা ছবি ফিরছে জেলা জুড়ে। লোকমুখে ছড়িয়ে পড়া ‘চোর-আতঙ্ক’ আর ‘অস্ত্রধারী দুষ্কৃতীদের’ গুজবে এখন রীতিমতো বিনিদ্র রজনী কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চলতি মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের মানসিক স্থিরতা নিয়েও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন অভিভাবকেরা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, গত কয়েকদিনে ঝাড়গ্রামের একাধিক গ্রামে একটি খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। দাবি করা হচ্ছে, একদল দুষ্কৃতী রাতের অন্ধকারে গ্রামে ঢুকে অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখাচ্ছে, দরজা ভাঙচুর করছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নষ্ট করে দিচ্ছে। যদিও এই খবরের কোনো প্রামাণ্য ভিত্তি পাওয়া যায়নি, তবুও একের পর এক এলাকায় এই আতঙ্কের রেশ ছড়িয়ে পড়ছে। মানিকপাড়া ও গোপীবল্লভপুরের বেশ কিছু জায়গায় দরজা ভাঙার বিক্ষিপ্ত ঘটনার খবর মিললেও তার পেছনে আসল কারণ কী, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে।
গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, কিছু অসাধু ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই গুজব ছড়াচ্ছে। পাহারায় নামা এক গ্রামবাসীর কথায়, “শুনছি পাশের গ্রামে হামলা হয়েছে, তাই আমরাও সতর্ক আছি। জীবনের ঝুঁকি নিতে চাইছি না।” এই ‘শোনা কথার’ জেরেই এখন গ্রামগুলিতে কার্যত অঘোষিত কার্ফু জারি হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে পড়েছেন মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা। গভীর রাত পর্যন্ত গ্রামে চিৎকার ও পাহারার শব্দে পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে। অভিভাবকদের আশঙ্কা, এই নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ এবং আতঙ্কের আবহে ছাত্রছাত্রীরা স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষা দিতে পারছে না। প্রশাসনের কাছে তাঁদের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন এলাকার মানুষ।
ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ধরনের ঘটনার কোনো লিখিত অভিযোগ বা ডাকাতির কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনও মেলেনি। এটি নিছকই গুজব বলে দাবি করেছে প্রশাসন। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে:
- গুজবে কান দেবেন না।
- আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না।
- সন্দেহভাজন কাউকে দেখলে সাথে সাথে নিকটস্থ থানায় জানান।
- স্বাভাবিক জীবনযাপন বজায় রাখুন।
পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হলেও মানুষের মনের ভয় কতটা কাটবে, তা সময়ই বলবে। আপাতত প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে দ্রুত এই আতঙ্কের মেঘ কাটানোর দাবি জানাচ্ছেন ঝাড়গ্রামের শান্তিকামী মানুষ।

