ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই শহর ও গ্রামাঞ্চলে উন্নয়নের কাজের গতি বাড়ছে। ঝাড়গ্রাম শহরেও জোর কদমে চলছে রাস্তা নির্মাণ। কিন্তু সেই উন্নয়ন নিয়েই এবার উঠল প্রশ্ন। অভিযোগ, শহরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে একটি রাস্তা দ্বিতীয়বার নির্মাণ করা হচ্ছে, অথচ আশপাশের বহু রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ।
স্থানীয়দের দাবি, ১৭৩ নম্বর বুথ এলাকার একটি ঢালাই রাস্তা আগে থেকেই যথেষ্ট ভালো অবস্থায় ছিল। সম্প্রতি সেটিকেই আবার নতুন করে ঢালাই করা হয়েছে। অথচ একই ওয়ার্ডের অন্যান্য রাস্তায় খানাখন্দ, ভাঙাচোরা অবস্থা—যেখানে সাধারণ মানুষের যাতায়াতই দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
ওয়ার্ডের বাসিন্দা দুলাল রায় বলেন, “এলাকার অনেক রাস্তা ভাঙাচোরা হয়ে আছে। সেখানে কাজ না করে ভালো রাস্তা আবার কেন বানানো হচ্ছে বুঝতে পারছি না।” অন্য এক বাসিন্দা তারাবতী দত্তর কথায়, “আমাদের এখানে চলাফেরা করাই দায়। অথচ যেটা ভালো ছিল সেটাই আবার ঢালাই হলো।”
অভিযোগ তুলেছেন দীনেশ মাহাতো ও সঞ্জয় সাউ-সহ আরও কয়েকজন বাসিন্দাও। তাঁদের বক্তব্য, একই রাস্তা দু’বার নির্মাণ করে সরকারি টাকার অপচয় হচ্ছে। এমনকি কেউ কেউ সরাসরি তহবিল নয়ছয়ের অভিযোগ তুলেছেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা দেবাশীষ কুণ্ডু শাসকদলকে কটাক্ষ করে বলেন, “রাস্তা মেরামতের নামে সরকারি তহবিল থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে। ভোটের আগে লোক দেখানো কাজ চলছে।”
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূলের কাউন্সিলর গৌতম মাহাতো। তিনি বলেন, “এটি পুরনো রাস্তার মেরামতির অংশ। জনগণের আবেদনের ভিত্তিতেই কাজ হয়েছে। কোনও দুর্নীতির প্রশ্নই ওঠে না।”
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে—প্রয়োজনীয় রাস্তা ফেলে রেখে একই রাস্তা কেন বারবার নির্মাণ করা হচ্ছে? ভোটের আগে উন্নয়নের নামে কি শুধুই দেখানো কাজ, নাকি বাস্তবেই রয়েছে অন্য কোনও হিসাব?

