ভোটের আগে দুই জেলায় একাধিক কেন্দ্রে ঘুরে ঝড়ো প্রচার সারলেন Suvendu Adhikari। কোথাও তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ, আবার কোথাও বিজেপি ক্ষমতায় এলে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি— এই দুই সুরেই সোমবার প্রচার চালালেন তিনি। তাঁর পাশাপাশি বিভিন্ন সভায় যোগ দেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী Yogi Adityanath এবং অসমের মুখ্যমন্ত্রী Himanta Biswa Sarma। সব ক্ষেত্রেই মূল নিশানায় ছিল তৃণমূল।
উত্তর কাঁথি, রামনগর ও দক্ষিণ কাঁথিতে সভা করে শুভেন্দু হুঁশিয়ারি দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে তৃণমূল নেতাদের ‘অবৈধ সম্পত্তি’ বাজেয়াপ্ত করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, রাজ্যে উন্নয়ন থমকে রয়েছে এবং মানুষ কাজ পাচ্ছেন না। তাঁর দাবি, ভাতা দিয়ে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না, কর্মসংস্থানই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
রামনগরের সভায় তিনি আরও বলেন, রাজ্যে শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি ভোটের ফল বদলাতে পরিযায়ী শ্রমিকরাও এবার রাজ্যে ফিরে এসে ভোট দেবেন বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে সবংয়ের লাঙলকাটায় সভা করে স্থানীয় ইস্যুকে সামনে আনেন শুভেন্দু। দীর্ঘদিনের দাবি কাঁটাখালির সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, বিজেপি সরকার এলে এক বছরের মধ্যেই সেতু তৈরি হবে। একইসঙ্গে তৃণমূল প্রার্থী মানস ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে চিটফান্ড সংযোগের অভিযোগও তোলেন তিনি।
এই সমস্ত অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল। ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অজিত মাইতি বলেন, ব্যক্তিগত আক্রমণে তিনি বিশ্বাসী নন এবং মানুষই ভোটের মাধ্যমে জবাব দেবে। তাঁর দাবি, বড় ব্যবধানে জয়ী হবেন তৃণমূল প্রার্থী।
সব মিলিয়ে, ভোট যত এগোচ্ছে ততই পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে রাজনৈতিক লড়াই তীব্র হচ্ছে। শুভেন্দুর এই ঝড়ো প্রচার সেই লড়াইকে আরও একধাপ বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

