ঝাড়গ্রাম জেলার সাঁকরাইলের কেশিয়াপাতা থেকে বনপুরা হয়ে মুড়াকাটি পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটারের দীর্ঘ রাস্তা আজ এলাকাবাসীর কাছে যাতায়াতের পথ নয়—কার্যত এক ‘মৃত্যুফাঁদ’। বছরের পর বছর ধরে রাস্তাটি প্রতিবছরই প্রতিশ্রুতির পাহাড় পায়, কিন্তু উন্নয়ন শূন্য। ভোটের আগে রাজনৈতিক নেতারা যতোই আশ্বাস দিন না কেন, বাস্তবে রাস্তায় একটুকুও পরিবর্তন নেই।
এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন নিত্যযাত্রী, স্কুলপড়ুয়া, কলেজ পড়ুয়া, বাজারে যাওয়া মানুষ থেকে শুরু করে গুরুতর অসুস্থ রোগীও। বর্ষায় পথ বন্ধ হয়ে যায় কাদা আর জলজমাটে। শুকনো মরসুমে রাস্তাটির ওপর ধুলোর আস্তরণ এতটাই ঘন হয় যে শ্বাস নেওয়াই দায়। অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত মাঝপথে আটকে পড়ে—এলাকাবাসীর কাছে এ এক চলমান দুঃস্বপ্ন।
বনপুরা, ডাহি, নেগড়িয়া, চাঁদপাল, কুলডিহা সহ আশেপাশের বহু গ্রাম এই রাস্তার ওপর নির্ভরশীল। তাঁদের অভিযোগ—পঞ্চায়েত থেকে ব্লক, ব্লক থেকে জেলা সব জায়গাতেই বহুবার অভিযোগ জানানো হয়েছে। কিন্তু রাস্তায় সংস্কারের কাজের চিহ্ন নেই। প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তব কাজে নেমে আসার মানুষ নেই।
এই বেহাল রাস্তা ঘিরে শাসক-বিরোধী রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়ে গেছে। একপক্ষ অন্য পক্ষের ওপর দোষ চাপাতে ব্যস্ত। কিন্তু তার মাঝেই প্রতিদিন এই দুর্ভোগ বইতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকেই। প্রশ্ন উঠছে—উন্নয়ন কি তবে রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির অঙ্কে আটকে পড়েছে?
এলাকাবাসীর এখন একটাই চাওয়া—দ্রুত সংস্কার হোক এই রাস্তা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তারা জানতে চান, “কবে আমরা নতুন রাস্তায় হাঁটতে পারব? কবে এই দুর্ভোগের শেষ হবে?” অপেক্ষার প্রহর শুধু দীর্ঘতর হচ্ছে।

