ঝাড়গ্রাম: সরকারি হাসপাতাল বললেই অনেকের মনে পড়ে দীর্ঘ লাইন, ধৈর্যের পরীক্ষা আর সীমিত পরিষেবা। এবার সেই চিরাচরিত ধারণা ভেঙে এক অনন্য নজির গড়ল ঝাড়গ্রামের (Jhargram) নয়াগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। মাত্র তিন দিনের মধ্যে ১৩০ জন রোগীর চক্ষু অস্ত্রোপচার করে চিকিৎসা পরিষেবার নতুন ইতিহাস তৈরি করল নয়াগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল।
এই তিন দিনের ‘চোখের আলো’ প্রকল্পের আওতায় এই বিশাল চিকিৎসা শিবিরের নেতৃত্বে দিয়ে ছিলেন চক্ষু বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ শান্তনু পাত্র। পাশাপাশি সহযোগিতায় ছিলেন হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

নয়াগ্রাম হাসপাতালের সুপার ডাঃ দেবাশিস মাহাতো জানান, “আমাদের হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ২০টি করে চক্ষু অস্ত্রোপচার করা হতো। কিন্তু তারপরেও বহু সংখ্যক রোগী অপেক্ষায় থাকতো। সেই সমস্যার সমাধান করতে এবং রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার লক্ষে হাসপাতলের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে অতিরিক্ত সরঞ্জাম এনে মাত্র তিন দিনেই ১৩০টি চক্ষু অপারেশন সফলভাবে করা হয়েছে।”
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার এই তিনদিনে একটানা চলে অপারেশন। চিকিৎসকরা ডিউটির ফাঁকে ফাঁকে এই অস্ত্রোপচার গুলি করেন। রোগীদের মধ্যে ঝাড়গ্রামের ছিলেন ৬৯ জন, পশ্চিম মেদিনীপুরের ৫৫ জন, উড়িষ্যার ৬ জন এবং কলকাতা সংলগ্ন এলাকার কয়েকজন।
চিকিৎসক শান্তনু পাত্র বলেন, “তিন দিনের মধ্যে এতগুলো অপারেশন করা ছিল খুবই চ্যালেঞ্জের। কিন্তু টিম একসঙ্গে কাজ করায় আমরা সফল হয়েছি। রোগীদের চোখে আলো ফিরেছে, এটাই আমাদের সাফল্য।”
সব মিলিয়ে সরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর এই অভাবনীয় সাফল্য আরও একবার দেখিয়ে দিল, সদিচ্ছা থাকলে কোনও কাজই অসম্ভব নয়। follow us

