ময়নায়: পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনীতিতে চাঞ্চল্যকর মোড়। স্ত্রী যখন বিজেপির পঞ্চায়েত প্রধান, ঠিক তখনই স্বামী নাম লেখালেন তৃণমূলে। ময়নার দাপুটে বিজেপি নেতা তথা জেলা কমিটির সদস্য চন্দন মণ্ডলের দলবদল ঘিরে সরগরম রাজনৈতিক মহল।
শুক্রবার কলকাতার তৃণমূল ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘাসফুল শিবিরে যোগ দেন চন্দন মণ্ডল। রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং তৃণমূল নেতা কুনাল ঘোষের উপস্থিতিতে তাঁর হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়। তিনবারের জেলা সম্পাদক চন্দনের এই দলত্যাগে ময়না বিধানসভা এলাকায় বিজেপির সাংগঠনিক ভিত নড়ে গেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সবচেয়ে বড় চমক—চন্দন মণ্ডলের স্ত্রী বর্তমানে বিজেপির পঞ্চায়েত প্রধান। ফলে একই পরিবারের দুই প্রান্তে দুই রাজনৈতিক অবস্থান ঘিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি কৌতূহল ও জল্পনা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ময়নায় দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন চন্দন। স্থানীয় স্তরে তাঁর প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য। সেই ‘ঘরের ছেলে’র তৃণমূলে যোগদান বিজেপির জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। তাঁর হাত ধরে যদি কর্মী-সমর্থকদের একটি অংশ দলবদল করেন, তাহলে ময়নায় গেরুয়া শিবিরের অবস্থান দুর্বল হতে পারে।
যদিও বিজেপির তরফে এখনও পর্যন্ত এই দলত্যাগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তৃণমূল শিবিরের দাবি, উন্নয়ন ও মানুষের পাশে থাকার রাজনীতিতেই আস্থা রেখে চন্দন তাঁদের দলে যোগ দিয়েছেন।
স্ত্রী বিজেপিতে, স্বামী তৃণমূলে—এই রাজনৈতিক সমীকরণ ভবিষ্যতে কোন দিকে গড়ায়, সেটাই এখন নজরে রাজনৈতিক মহলের।

