আলোকসজ্জা, ভক্তি আর ঐতিহ্যের অনন্য মেলবন্ধনে মেতে উঠেছে নবদ্বীপ শহর। নদীয়ার আধ্যাত্মিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত এই শহর যেন আরও একবার ফিরে পেয়েছে তার ঐতিহ্যবাহী জৌলুস— সর্বজনীন শ্রী শ্রী মহাচক্র রাস উৎসব-এর মাধ্যমে।
প্রাচীন মায়াপুর এলাকায় চলা এই উৎসবের এ বছর ৬৯তম বর্ষ। একসাথে ১০৮টি রাধাকৃষ্ণ মূর্তির পূজা— এমন দৃশ্য গোটা বাংলায় একমাত্র এখানেই দেখা যায়। ই বিশেষত্বের কারণেই নবদ্বীপের মানুষ একে ভালোবেসে বলেন ‘মহাচক্র রাস’।
উৎসব কমিটির সম্পাদক রঘুনাথ দাস জানান, “এটি শুধু পুজো নয়, এটি ভক্তির চক্র। প্রাচীন বালক সাধুর হাত ধরে শুরু হয়েছিল এই পুজোর প্রচলন। তাঁরই দীক্ষায় নবদ্বীপে সূচনা হয় চক্ররাসের, যেখানে রাধা-কৃষ্ণের ১০৮টি মূর্তি চক্রাকারে ঘূর্ণায়মান অবস্থায় বিরাজ করেন। তাই একে বলা হয় ‘চক্ররাস’। এই পুজো আজও সেই আধ্যাত্মিক ভাবনাকেই বয়ে চলেছে।”
চক্রাকারে সাজানো রাধাকৃষ্ণের মূর্তিগুলি ধীরে ধীরে ঘুরতে থাকে পূজার সময়, যা এক অপূর্ব দৃশ্য তৈরি করে। সুর, আলো, ঢাকের শব্দ আর কীর্তনের তালে ভরে ওঠে সমগ্র এলাকা।
শহরের প্রবীণ বাসিন্দা শশাঙ্ক পাল বলেন, “এই রাস উৎসব আমাদের শিকড়ের সঙ্গে জড়িয়ে। ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি— যখন মহাচক্র ঘোরে, তখন মনে হয় ভগবান নিজে নেমে এসেছেন।”
প্রতি বছরই হাজার হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থী আসেন এই ঐতিহ্যবাহী পুজো দেখতে। পুজো কমিটির পক্ষ থেকে প্রায় তিন হাজার মানুষের জন্য প্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়। স্থানীয় হোটেল ও আশ্রমগুলো ভরে ওঠে বাইরে থেকে আসা ভক্তদের ভিড়ে।
পুজোর উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, আগামী দিনে এই ঐতিহ্যকে আরও বৃহৎ পরিসরে নিয়ে যেতে চান তাঁরা। “আমাদের লক্ষ্য, এই মহাচক্র রাসকে বিশ্বস্তরে তুলে ধরা। যাতে নবদ্বীপের ভক্তি ও সংস্কৃতির বার্তা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছায়,” — জানালেন পুজো উদ্যোক্তা দেবব্রত রায়।

