শনিবার রাতে ওয়াশিংটনের হিলটন হোটেলে হঠাৎ গুলির শব্দে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় সেখানে চলছিল হোয়াইট হাউসের বার্ষিক প্রেস ডিনার অনুষ্ঠান, যেখানে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। গুলির শব্দ শোনা মাত্রই সিক্রেট সার্ভিস দ্রুত তাঁদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যায়। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই গোটা হোটেল ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী। উপস্থিত অতিথিদের অনেকেই আতঙ্কে টেবিলের নিচে আশ্রয় নেন।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, মূল অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে নিরাপত্তা বলয়ের কাছাকাছি এই গুলির ঘটনা ঘটে। এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট বা অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্য কোনও বিশিষ্ট ব্যক্তির আঘাত পাওয়ার খবর নেই। নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য গুলির ধাক্কায় সামান্য জখম হয়েছেন বলে সূত্রের খবর।
ঘটনার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে নিরাপত্তা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাঁদের দ্রুত পদক্ষেপের ফলেই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অনুষ্ঠানটি আবার আয়োজন করা হতে পারে।
এই ঘটনার জেরে ফের মনে পড়ে গেল ১৯৮১ সালের সেই হামলার কথা, যখন একই ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলের বাইরে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগ্যান। চার দশকেরও বেশি সময় পর একই স্থানে আবার প্রেসিডেন্টকে ঘিরে নিরাপত্তা আতঙ্ক তৈরি হওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠছে মার্কিন নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এফবিআই এবং সিক্রেট সার্ভিস। হামলাকারীর উদ্দেশ্য কী ছিল এবং তিনি একা নাকি কোনও বড় চক্রের অংশ, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আপাতত প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।



