Sundarban: রাজ্যে পালাবদলের পর সুন্দরবনের গোসাবা ব্লকের পাঠানখালি অঞ্চলের তৃণমূল নেতা সুবিদ আলি ঢালি ওরফে ঝড়ো ঢালিকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিজেপির একাংশের দাবি, সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম, কাটমানি, জমি দখল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিপুল সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন তিনি। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে ঝড়ো ঢালির কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঠানখালি অঞ্চলের বাসিন্দা ঝড়ো ঢালি বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের গোসাবা ব্লকের কার্যকরী সভাপতি। এলাকায় তাঁর একাধিক বাড়ি, মাছের ভেড়ি, খামারবাড়ি ও বিস্তীর্ণ জমি রয়েছে বলে দাবি করছেন বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে এবং বিভিন্নভাবে প্রভাব খাটিয়ে এই সম্পত্তি গড়ে তোলা হয়েছে।
বাসিন্দাদের দাবি, একসময় গ্রামে ছাগল ও মুরগি বিক্রি করতেন ঝড়ো ঢালি। পরবর্তীকালে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর তাঁর আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন হয়। বর্তমানে গোসাবা এলাকায় তাঁর একাধিক বাড়ি ছাড়াও কলকাতা, বসিরহাট ও হাসনাবাদে সম্পত্তি রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে কোনও সরকারি নথি বা তথ্য সামনে আসেনি।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এলাকার দরিদ্র মানুষকে ঋণ দেওয়ার নামে স্ট্যাম্প পেপারে সই করিয়ে পরে তাঁদের জমি নিজের নামে লিখিয়ে নেওয়া হতো। এছাড়াও সরকারি আবাসন-সহ বিভিন্ন প্রকল্পে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন অনেকেই। অভিযোগগুলির সত্যতা নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা আরও অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একাধিক মহিলাকে জোরপূর্বক বিয়ে করা এবং তাঁদের সম্পত্তি আত্মসাতের ঘটনাও ঘটেছে। তবে এই অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে কোনও সরকারি বা আদালত-স্বীকৃত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর পাঠানখালি এলাকায় রাজনৈতিক হিংসা, ভাঙচুর, মারধর, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির একাধিক অভিযোগে ঝড়ো ঢালির নাম উঠে এসেছে। সেই অভিযোগগুলির ভিত্তিতে তদন্ত চলছে বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক পুলিশি তৎপরতার পর থেকে ঝড়ো ঢালিকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। গোসাবা থানার পুলিশ তাঁর সম্ভাব্য অবস্থানগুলি খতিয়ে দেখছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। যদিও তিনি কোথায় রয়েছেন, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোসাবা এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে ঝড়ো ঢালি বা তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করা হবে।





