Tmc News: বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর দলের অন্দরে অসন্তোষের সুর আরও স্পষ্ট হচ্ছে। কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুশান্ত ঘোষ ও অরূপ চক্রবর্তীর পর এবার তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্রের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ শান্তনু সেন। তিনি দলনেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
দলীয় সূত্রে খবর, চিঠিতে শান্তনু সেন স্পষ্টভাবে আর জি কর হাসপাতাল কাণ্ড, চাকরি দুর্নীতি, অভয়াকাণ্ড-সহ একাধিক বিতর্কিত প্রসঙ্গের উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, এই সমস্ত অভিযোগ ও দুর্নীতির ঘটনাকে সামনে রেখেই বাংলার মানুষ এবার তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে দলের মুখপাত্র হিসেবে প্রকাশ্যে দলের অবস্থানকে সমর্থন করা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না বলেই জানিয়েছেন তিনি।
চিঠিতে শান্তনু সেন লিখেছেন, মানুষের রায়কে সম্মান জানিয়ে তিনি জাতীয় মুখপাত্রের পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। একইসঙ্গে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার আবেদনও জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, আর জি কর হাসপাতালকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই প্রকাশ্যে সরব হতে দেখা গিয়েছিল শান্তনু সেনকে। সেই সময় দলীয় অবস্থানের বিরোধিতা করায় তাঁকে সাসপেন্ডও করা হয়েছিল। যদিও নির্বাচনের আগে তাঁর সাসপেনশন তুলে নেওয়া হয়। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, সেই সময় থেকেই তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শান্তনু সেন বলেন, “তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে আমি দলের সঙ্গে আছি। দল আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছি। কিন্তু এমন বহু ঘটনা সামনে এসেছে, যেগুলো কোনওভাবেই সমর্থন করা যায় না। শুধুমাত্র দলের মুখপাত্র হিসেবে সেগুলো ডিফেন্ড করতে হয়েছে। তার জন্য অনেক কথাও শুনতে হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলার মানুষ ৪ মে-র ভোটের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। চাকরি দুর্নীতি, আর জি কর কাণ্ড, অভয়াকাণ্ড-সহ একাধিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষ রায় দিয়েছেন। মানুষের সেই রায়কে সম্মান জানানো উচিত। এর পর আমার পক্ষে আর এই বিষয়গুলিকে সমর্থন করা সম্ভব নয়।”
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শান্তনু সেনের এই পদত্যাগ তৃণমূলের অন্দরের অস্বস্তিকে আরও সামনে এনে দিল। বিশেষ করে নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর দলের একাধিক নেতা প্রকাশ্যে দুর্নীতি, সংগঠনের ভিতরের সমস্যা এবং ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।
উল্লেখ্য, এর আগেই বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনিও প্রকাশ্যে দলের ভিতরে “দুবৃত্তায়ন” এবং আইপ্যাকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। একইভাবে বিভিন্ন জেলায় দলের একাংশের নেতারা সংগঠনের কাজের ধরন ও নেতৃত্ব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তৃণমূলের একসময়কার পরিচিত মুখ শান্তনু সেন রাজ্যসভায় দলের প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি জাতীয় স্তরেও দলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন। টেলিভিশনের বিতর্কসভা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মঞ্চ— সর্বত্রই তাঁকে তৃণমূলের অবস্থান তুলে ধরতে দেখা গিয়েছে। সেই নেতারই এভাবে প্রকাশ্যে দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়ানো রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
যদিও এই ইস্তফা নিয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।





