গত কয়েকদিন ধরেই ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম-সহ নানা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ঘুরছে একটি রহস্যময় সংখ্যার বিন্যাস— ‘25/25/25’। কেউ স্ট্যাটাসে লিখছেন, কেউ আবার মিম বানিয়ে শেয়ার করছেন। হঠাৎ করে এই সংখ্যাটি ট্রেন্ডিং হয়ে ওঠায় অনেকেই বিভ্রান্ত। প্রশ্ন উঠছে—আসলে কী এই 25/25/25? কোনও গোপন সংকেত, না কি নিছকই নেটদুনিয়ার মজা?
কী এই ‘25/25/25’?
এই ভাইরাল ট্রেন্ডের সূত্র লুকিয়ে আছে আসন্ন বছরের ক্যালেন্ডারে। 2025 সালের 25 ডিসেম্বর, অর্থাৎ বড়দিনের তারিখ লেখার সময় আমরা সাধারণত দিন/মাস/বছর ফরম্যাট ব্যবহার করি। সেই হিসাবে তারিখটি হয় 25/12/25। এখানে দিন (25) এবং বছর (25)-এর অদ্ভুত মিলই নেটিজেনদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। এই মিলকে ঘিরেই মজার ছলে অনেকে মাসের জায়গাতেও ‘25’ বসিয়ে দিয়েছেন। ফলে তৈরি হয়েছে কাল্পনিক এক তারিখ— 25/25/25। বাস্তবে অবশ্য 25তম কোনও মাস নেই, কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার মিম সংস্কৃতিতে সেটাই এখন ট্রেন্ড।
কেন এটি ভাইরাল?
সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষ সবসময়ই ভবিষ্যতে কী হতে যাচ্ছে বা অদ্ভুত কোনো প্যাটার্ন দেখলে তাতে আকৃষ্ট হয়। এক্ষেত্রে দুটি প্রধান কারণ কাজ করছে:
১. মজা বা হিউমার: অনেকেই জেনেশুনে অসম্ভব এই তারিখটি লিখে বন্ধুদের বোকা বানাচ্ছেন বা মজা করছেন। এটি অনেকটা ‘30শে ফেব্রুয়ারি’-র মতো কৌতুক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
২. ম্যানিফেস্টেশন বা লাক: অনেকে আবার নিউমারোলজি বা সংখ্যাতত্ত্বের দিক থেকে বিষয়টিকে দেখছেন। তাদের ধারণা, একই সংখ্যার বারবার পুনরাবৃত্তি (যেমন 25-25-25) জীবনে ভালো কিছু বা সৌভাগ্য বয়ে আনতে পারে। তাই অনেকেই ‘গুড লাক’ বা অর্থপ্রাপ্তির আশায় এটি শেয়ার করছেন।
নেটদুনিয়ায় এই ট্রেন্ড ঘিরে চলছে মজার মন্তব্যও। এক ফেসবুক ব্যবহারকারীর কটাক্ষ, “25/25/25 দিনে কি ভিনগ্রহীরা নামবে নাকি?” আরেকজন লিখেছেন, “আমার বেতন বাড়লে তবেই এই তারিখ সেলিব্রেট করব।”
উপসংহার
সব মিলিয়ে, 25/25/25 কোনও বাস্তব তারিখ নয়। এটি আসলে ২০২৫ সালকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন হুজুগ—মজা, কৌতূহল আর কল্পনার মিশেল। তবে এই ট্রেন্ড আবারও প্রমাণ করে দিল, সংখ্যার সামান্য হেরফের দিয়েই কীভাবে নেটদুনিয়ায় বিনোদনের ঢেউ তোলা যায়।

