পরিচয়পত্র দেখিয়েও মিলছিল না সম্মান! আধার, ভোটার কার্ড দেখালেও ‘জাল’ বলে কটাক্ষ, বাংলা বললেই বাংলাদেশি তকমা। এমন অপমান আর অত্যাচারের শিকার হতে হয়েছে ভিনরাজ্যে কর্মরত হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিককে। শুধু তাই নয়, গায়ে হাত তোলা, অকথ্য গালাগালি, মজুরি আটকে দেওয়ার মতো ঘটনাও নিত্যদিনের।
এই আতঙ্কের মধ্যেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন ‘শ্রমশ্রী প্রকল্প’। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ভিনরাজ্যে অত্যাচারিত বাংলার শ্রমিকদের সুরক্ষা ও আর্থিক সহায়তা করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে একপ্রকার স্বস্তির হাওয়া। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই জেলার বিভিন্ন ব্লক ও পুরসভার দুয়ারে সরকার ও আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান ক্যাম্প থেকে শ্রমশ্রী প্রকল্পে ১৯৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শেখ ওমর ফারুক, যিনি উড়িষ্যায় হকারি করতেন, তিনি বলেন— “দীর্ঘদিন হকারি করলেও বিগত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশি বলে গালিগালাজ শুনতে হতো। আধার, ভোটার কার্ড দেখালেও বলা হতো সব জাল। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা শোনার পরেই বাড়ি ফিরে এসেছি। শ্রমশ্রী প্রকল্পে আবেদন করেছি। সংসারে এবার স্বস্তি আসবে।”
একই অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন ফিরোজ আলী। তিনি বলেন— “অনেক সময় কাজের টাকা দেওয়া হতো না। উল্টে বাজে ভাষায় কটুক্তি করা হতো। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরেই বাড়ি ফিরেছি এবং মুখ্যমন্ত্রীর শ্রমশ্রী প্রকল্পে নাম লিখিয়েছি।
এ প্রসঙ্গে এলাকার বিধায়ক সৌমেন মহাপাত্র বলেন— “বাংলা বললেই শ্রমিকদের বাংলাদেশি বলা হচ্ছে। পরিচয়পত্র জাল বলে অপমান করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা বিরল। এর প্রভাব আগামী ভোটে পড়বে।” অন্যদিকে, বিজেপির কটাক্ষ— “ভোটের আগে বিভিন্ন প্রজেক্টে ঘোষণা করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে তৃণমূল।

