হঠাৎ বদলি খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বুশরা বানো, নতুন দায়িত্বে পার্থ ঘোষ
খড়্গপুর: খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে বড়সড় রদবদল। বদলি করা হল আইপিএস আধিকারিক বুশরা বানোকে। তাঁর জায়গায় খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন আইপিএস আধিকারিক পার্থ ঘোষ।
রাজ্য সরকারের নির্দেশে বুশরা বানোকে রাজ্য সশস্ত্র বাহিনীর চতুর্থ ব্যাটালিয়নের ডেপুটি কমান্ডান্ট পদে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, এটি রুটিন বদলির অংশ। তবে বদলির সময় নিয়েই শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।
কারণ, কয়েকদিন আগেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল বুশরা বানোর একটি ভিডিয়ো। আর সেই ভিডিয়ো ঘিরেই তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। ভিডিয়োয় পুলিশের উর্দিতে দেখা যায় বুশরাকে। সেখানে তিনি আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেনশিয়াল কোচিং অ্যাকাডেমি নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান।
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা এবং উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতিতে ওই প্রতিষ্ঠানের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। একইসঙ্গে নিজের পড়াশোনার সময় সেখান থেকে পাওয়া সহযোগিতার কথাও জানান। কিন্তু বক্তব্যের বিষয়বস্তুর চেয়ে বেশি চর্চা শুরু হয় তাঁর ব্যবহৃত কিছু শব্দ নিয়ে।
ভিডিয়োর শুরুতে ইসলামি সম্ভাষণ এবং বক্তব্যের মধ্যে কয়েকটি ধর্মীয় শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি সামনে এনে সমাজমাধ্যমে প্রশ্ন তোলে একাংশ। ‘হিন্দু লিগ্যাল ফান্ড’ নামে একটি সংগঠনও ভিডিয়োটির অংশ নিজেদের এক্স হ্যান্ডলে প্রকাশ করে বুশরা বানোর শব্দচয়ন নিয়ে আপত্তি জানায়। পুলিশের উর্দিতে এবং সরকারি পদে থাকা অবস্থায় এমন শব্দ ব্যবহার কতটা গ্রহণযোগ্য, সেই প্রশ্ন তোলা হয়। পাশাপাশি ‘জয় হিন্দ’ বা ‘বন্দে মাতরম্’ ব্যবহারের প্রসঙ্গও সামনে আসে।
তবে বিতর্কের অন্য দিকও রয়েছে। সমাজমাধ্যমের একাংশের দাবি, একজন আধিকারিকের সম্ভাষণ বা সাংস্কৃতিক-ধর্মীয় শব্দ ব্যবহারের সঙ্গে তাঁর সরকারি দায়িত্ব পালনের বিষয়কে এক করে দেখা উচিত নয়। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই সামনে এল বুশরা বানোর বদলির নির্দেশ।
ফলে ভিডিয়ো বিতর্কের পরেই বদলি হওয়ায় জল্পনা আরও বাড়ছে। যদিও বুশরা বানোর বদলির সঙ্গে ওই ভিডিয়ো বিতর্কের কোনও সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে—এমন কোনও সরকারি বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।





