Nandigram, সরকারি আবাস প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা ফেরত দিয়ে নজির গড়লেন পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের এক যুবক। তাঁর দাবি, বর্তমান বাজারদরে মাত্র ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকায় বাড়ি নির্মাণ করা সম্ভব নয়। তাই ভবিষ্যতে সমস্যায় পড়ার আশঙ্কায় তিনি প্রথম কিস্তির টাকা নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও)-এর দপ্তরে জমা দিয়ে দেন। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চর্চা শুরু হয়েছে।
জানা গিয়েছে, নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের চম্পাইনগরের বাসিন্দা শেখ মুঘলা আজম তাঁর মায়ের নামে আবাস প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছিলেন। আবেদন অনুমোদিত হওয়ার পর প্রথম কিস্তির টাকা তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আসে।
শেখ মুঘলা আজমের দাবি, বাড়ি তৈরির প্রস্তুতি নিতে গিয়ে তিনি নির্মাণ সামগ্রীর বর্তমান বাজারদর সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তখন তাঁর মনে হয়, সরকারের নির্ধারিত অনুদানের অর্থে বাড়ি নির্মাণ সম্পূর্ণ করা সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান বাজারে নির্মাণ সামগ্রীর দাম এতটাই বেড়েছে যে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকায় একটি বাসযোগ্য বাড়ি তৈরি করা কার্যত অসম্ভব।
তিনি আরও দাবি করেন, আবাস প্রকল্পের টাকা নেওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাড়ি নির্মাণ না হলে প্রশাসনিক বা আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই তিনি প্রথম কিস্তির টাকা বিডিও অফিসে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
বৃহস্পতিবার নন্দীগ্রাম-১ ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের দপ্তরে গিয়ে তিনি ওই অর্থ জমা দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, বর্তমান বাজারদরে বাড়ি নির্মাণের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় আবাস প্রকল্পের অনুদানের পরিমাণ নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।
তবে এই ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। শেখ মুঘলা আজমের দাবি এবং আবাস প্রকল্পের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের অবস্থানের দিকেও নজর রয়েছে।





