পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলা (Pingla) বিধানসভার অন্তর্গত ৬ নম্বর অঞ্চলের ঘোড়ামারা গ্রামে এক কলেজ ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীকে আটক করে তদন্ত শুরু করেছে পিংলা থানার পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম বর্ষের ওই কলেজ ছাত্রী প্রতিদিনের মতো কলেজ ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। অভিযোগ, সন্ধ্যাবেলায় বাড়ি ফেরার পথে রাস্তার মধ্যেই বিশ্বজিৎ ভৌমিক নামে এক পুলিশ কনস্টেবল তাঁর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। অভিযুক্ত বর্তমানে দিঘা ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত বলে জানা গিয়েছে।
অভিযোগ, ঘটনাটি দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে অভিযুক্তকে আটক করেন। ঘটনার পর আতঙ্কিত ওই ছাত্রী কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং ফোনে তাঁর মাকে বিষয়টি জানান।
জানা গিয়েছে, সেই সময় ছাত্রীর মা পিংলার বিধায়ক স্বাগত মান্নার সঙ্গে ছিলেন। খবর পাওয়ার পর বিধায়ক অবিলম্বে পিংলা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (ওসি)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরে ঘটনাস্থল ও থানায় পৌঁছান।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত কনস্টেবলকে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করেনি।

বিধায়ক স্বাগত মান্নার প্রতিক্রিয়া
পিংলা থানায় উপস্থিত হয়ে বিধায়ক স্বাগত মান্না ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। তিনি দাবি করেন, রাজ্যে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে এবং এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। পাশাপাশি তিনি প্রাক্তন শাসকদলের সমালোচনা করে অভিযোগ করেন যে, দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ব্যর্থতার ফলেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বিধায়ক আরও বলেন, একজন পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি নির্যাতিতার পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে প্রশাসনের কাছে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
বর্তমানে গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।





