Sabang: “আমাকে বাঁচান স্যার, আমি এখন বিয়ে করতে চাই না, আমি পড়াশোনা করতে চাই।” শনিবার সকালে একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ—আর সেই মেসেজই বদলে দিল এক তরুণীর জীবন।
পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ে জোর করে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ভেস্তে দিল পুলিশ। মণ্ডপ তৈরির আগেই ওই তরুণীকে উদ্ধার করেন সবং থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক Shubhankar Ray ও তাঁর টিম।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সবং থানার ভেমুয়া এলাকার বাসিন্দা ওই তরুণী উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরিবারের অজান্তে তাঁকে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ। তরুণীর দাবি, তাঁকে বেড়াতে যাওয়ার নাম করে বুড়াল এলাকায় মামাবাড়িতে পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, সেদিনই তাঁর বিয়ে ঠিক করা হয়েছে।
পরিস্থিতি বুঝে প্রতিবাদ করলেও লাভ হয়নি। বরং তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তবে হাল ছাড়েননি তিনি। পাশের বাড়ির এক ব্যক্তির ফোন ব্যবহার করে কোনওরকমে সবং থানার ওসি-কে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠান।
মেসেজটি পাওয়ার পর আর দেরি করেননি ওসি শুভঙ্কর রায়। দ্রুত পুলিশ বাহিনী নিয়ে পৌঁছে যান ঘটনাস্থলে। পুলিশের আচমকা উপস্থিতিতে বিয়ের বাড়িতে হইচই পড়ে যায়। সেখান থেকেই তরুণীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
থানায় এসে তরুণী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি এখন বিয়ে করতে চান না, পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চান। ওসি শুভঙ্কর রায়ের এই দ্রুত ও মানবিক পদক্ষেপে স্বস্তি ফিরেছে তরুণীর জীবনে। এলাকাবাসীরাও পুলিশের এই ভূমিকায় প্রশংসায় পঞ্চমুখ।এই ঘটনাই আবার মনে করিয়ে দিল—সময় মতো সঠিক পদক্ষেপ নিলে অনেক বড় অন্যায়ও থামানো সম্ভব।





