SIR: ময়নার রাস উৎসবের আবহেও রাজনৈতিক বারুদ ছড়াল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যে। শনিবার সন্ধ্যায় ময়নার রাস উৎসবে যোগ দিয়ে মঞ্চ থেকে কার্যত বিস্ফোরণ ঘটালেন তিনি। তাঁর দাবি—“পিসি-ভাইপো নিজেরাই SIR ফর্ম ফিলআপ করে জমা দিয়েছে, অথচ সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গঠিত প্রতিনিধি দল নিয়ে কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, “ওরা নাকি সেইসব বাড়িতে যাবে যেখানে মানুষ SIR আতঙ্কে মারা গিয়েছেন। কিন্তু আমি বলছি—৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যত মানুষ গাছ থেকে পড়ে মরবে, বাজ পড়ে মরবে, সাপ কামড়ে মরবে—সবকিছুর দায় এই ইস্যুর ঘাড়ে চাপানো হবে। ঢপবাজি আর কতদিন চলবে?”
তৃণমূলকে একহাত নিয়ে শুভেন্দুর তির্যক মন্তব্য, “মানুষকে ভয় দেখিয়ে রাজনীতি করা এদের পুরোনো অভ্যাস। নিজেরা ফর্ম পূরণ করেছে, অথচ সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে। বাংলার মানুষ এসব বুঝে গেছে।”
এদিন ময়নার লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প বন্ধ হওয়া নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, “ময়নার দুই গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রায় বারো হাজার মহিলার লক্ষ্মীর ভান্ডার তিন মাস ধরে বন্ধ। আমি কথা দিচ্ছি, কান ধরে টাকা আদায় করব—ওটা ওদের বাপের টাকা নয়। আর যদি সেটা করতে না পারি, তাহলে আমি মেদিনীপুরের শুভেন্দু অধিকারী নই।”
অন্যদিকে, ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের দলত্যাগ নিয়ে শুভেন্দুর মন্তব্যে আরও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তিনি বলেন, “তৃণমূলের বড় ক্ষতি হয়েছে। হুমায়ুন চলে গেলে ওখানে সিপিএম-কংগ্রেস জোট আর বিজেপিই জিতবে। এই পার্টি আর টিকবে না, এখন ওদের পতনের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে।”
ময়নার রাস উৎসবের মঞ্চ থেকে শুভেন্দুর এই কটাক্ষ ও রাজনৈতিক ভবিষ্যদ্বাণী ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। রাজনৈতিক মহলের মতে, তাঁর এই বক্তব্য SIR ইস্যু এবং তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনে নতুন আগুন জ্বালিয়ে দিল।

