মেদিনীপুর: স্নেহা চক্রবর্তীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্তে আরও তৎপর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। মামলার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠনের পর এবার স্নেহার স্বামী রণদীপএর কেনা বিএমডব্লিউ গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করল কোতোয়ালি থানার পুলিশ। পাশাপাশি, তদন্তকারীদের নজরে থাকা রণদীপের বন্ধু শেখ আবুল বাশারের খোঁজেও তল্লাশি চলছে। স্নেহার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ওঠা একাধিক অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
শেখ আবুল বাশার পেশায় ব্যবসায়ী এবং মেদিনীপুর শহরের সিপাই বাজার এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। তাঁর একটি চালকল রয়েছে। স্নেহার পরিবারের অভিযোগ, রণদীপের সঙ্গে বাশারের ঘনিষ্ঠতা ছিল এবং স্নেহাকে অপমান করার ঘটনায় তাঁর ভূমিকা ছিল। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
স্নেহার মা সুলেখা চক্রবর্তীর দাবি, রণদীপের বাবার গ্যারেজে আয়োজিত বিশ্বকর্মা পুজোয় তিনি বাশারকে দেখেছিলেন। তার আগে মেয়ের মুখেও বাশারের কথা শুনেছিলেন বলে জানান তিনি। সুলেখার অভিযোগ, বাশার মাঝেমধ্যেই স্নেহাকে অপমান করতেন। সেই সময় রণদীপ প্রতিবাদ করতেন না বলেও দাবি করেছেন তিনি।
যমুনাবালির বাসিন্দা রণদীপের সঙ্গে স্নেহা চক্রবর্তীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দুই পরিবারের সম্মতিতে গত ডিসেম্বরে তাঁদের বিয়ে হয়। স্নেহার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর যৌতুকের দাবি এবং আর্থিক বিষয়কে কেন্দ্র করে অশান্তি বাড়তে থাকে। সম্প্রতি বাপের বাড়ি থেকে ১০ লক্ষ টাকা নিয়ে আসার জন্য স্নেহার উপর চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ। পরিবারের আরও দাবি, বিএমডব্লিউ গাড়ি কেনা নিয়ে দম্পতির মধ্যে কয়েক দিন ধরে বিরোধ চলছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, রণদীপ তাঁর বন্ধু বাশারের সঙ্গে গিয়ে বিলাসবহুল গাড়িটি কেনেন। এরপর স্নেহাকে মারধর করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ তুলেছে তাঁর পরিবার। গত ৮ অক্টোবর মেদিনীপুর শহর সংলগ্ন যমুনাবালিতে শ্বশুরবাড়ি থেকে স্নেহার দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় রণদীপ এবং তাঁর বাবা রতন জানা গ্রেপ্তার হন। মামলার তদন্তে রণদীপকে ফের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল বলে আগেই জানিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে, রণদীপের এক আত্মীয় আদালত চত্বরে দাবি করেছিলেন, রণদীপ নিজেই আর্থিকভাবে সচ্ছল এবং নিজের টাকায় গাড়ি কেনার সামর্থ্য তাঁর রয়েছে। তাই গাড়ি কেনার জন্য শ্বশুরবাড়ির কাছ থেকে টাকা চাওয়ার প্রয়োজন ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনাটি নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ওই আত্মীয়।
স্নেহার পরিবারের তরফে অবশ্য গয়না নিয়েও অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাঁর বাবা ধ্রুব চক্রবর্তীর দাবি, বিয়ের সময় মেয়েকে প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকার গয়না দেওয়া হয়েছিল। স্নেহা তাঁর মায়ের গয়নাও ব্যবহার করতেন বলে পরিবারের বক্তব্য। বর্তমানে সেই গয়নাগুলির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
স্নেহার অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই সিট গঠন করেছে জেলা পুলিশ। বিএমডব্লিউ গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা এবং বাশারের খোঁজে তল্লাশি—এই দুই পদক্ষেপ তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে গাড়ি কেনা, নির্যাতন, যৌতুক ও গয়না সংক্রান্ত অভিযোগগুলির সত্যতা এবং বাশারের ভূমিকা তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে।





