ঝাড়গ্রাম: নিম্নচাপের প্রভাবে ঝাড়গ্রাম জেলায় এক নাগাড়ে বৃষ্টিপাত। আর তার জেরে হু হু করে জল বেড়েছে কংসাবতী, সুবর্ণরেখা ও ডুলুং নদীতে। নদীগুলির জলস্তর বাড়তে বাড়তে এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কংসাবতী নদীর জল বাড়ার ফলে মানিকপাড়া এলাকায় আমদই গ্রামের কাছে থাকা বাঁশের সাঁকো সম্পূর্ণ ভেসে গিয়েছে। ফলে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মধ্যে যোগাযোগ।
এই বাঁশের সাঁকো ছিল এলাকার মানুষের কাছে দ্রুত মেদিনীপুরে পৌঁছানোর একমাত্র সহজ পথ। খালশিউলী, সরডিহা, মাণিকপাড়া সহ বহু গ্রামের মানুষ এই পথ দিয়েই স্কুল, কলেজ, বাজার, চিকিৎসা এমনকি নিত্য প্রয়োজনের জন্য যাতায়াত করতেন মেদিনীপুর শহরে।
কিন্তু এখন সাঁকো ভেসে যাওয়ায় কারণে কার্যত গৃহবন্দি ওই এলাকার সাধারণ মানুষ। ঘুরপথে বিকল্প রাস্তাও দীর্ঘ ও বিপজ্জনক, বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে। ফলে সমস্যায় পড়েছেন ছাত্রছাত্রী থেকে বৃদ্ধ, রোগী থেকে কৃষক—সবাই।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা এলেই এই বাঁশের সাঁকো নদীতে ভেসে যায়। বারবার প্রশাসনকে জানানো হলেও আজও মেলেনি কোনো স্থায়ী সমাধান। আরো একজন প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “সাঁকো না থাকলে আমরা যেন এক দ্বীপে বাস করছি। মেদিনীপুরের হাসপাতাল, বাজার সব এখান থেকে আটকে গেল। পাকা সেতুর দাবি জানাতে জানাতে বুড়ো হয়ে গেলাম”।
বর্তমানে কংসাবতীর জল আরও বাড়ার আশঙ্কায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয় এলাকায়। নদীর ধারে থাকা ঘরবাড়ি, চাষের জমিও জলমগ্ন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন গ্রামবাসীরা।
এখন তাঁদের একটাই দাবি—বাঁশের সাঁকোর জায়গায় একটি পাকা সেতু নির্মাণ করে আমদের এই নিত্য দিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করুক প্রশাসন। না হলে প্রতিবছর এই দুর্ভোগ পোহাতে হবে বলেই মনে করছেন সবাই।

