ঝাড়গ্রামের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে উঠে এসে দেশের মানচিত্রে নজর কাড়ল খাড়বান্ধি এস.সি. উচ্চ বিদ্যালয়। সর্বভারতীয় বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতায় দেশের প্রায় ৮,০০০ বিদ্যালয়কে পিছনে ফেলে ভারতের দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে এই স্কুল। জেলার নাম উজ্জ্বল করে এই অসামান্য সাফল্য এখন গোটা এলাকায় আনন্দের ঢেউ তুলেছে।
এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছিল ATL টিঙ্কারিং ল্যাবরেটরির অনুদান পাওয়ার লক্ষ্যে। প্রতিযোগিতায় ছিল ১৪১টি উদ্ভাবনী কর্মসূচি, যার মধ্যে ৭০টি সেন্সর-নির্ভর আধুনিক পরীক্ষা—আগুন সতর্ককারী যন্ত্র, ধোঁয়া শনাক্তকারী ডিভাইস, স্বয়ংক্রিয় পথবাতি সহ একাধিক প্রযুক্তিনির্ভর মডেল জমা দিয়েছিল খাড়বান্ধি স্কুল।
ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অভিভাবকরাও সরাসরি অংশ নেন প্রতিযোগিতার পুরো প্রক্রিয়ায়। জমা দেওয়া প্রতিটি কাজ, ভিডিও, বহুনির্বাচনী প্রশ্ন এবং প্রকল্পের নম্বর যুক্ত হয় বিদ্যালয়ের সামগ্রিক স্কোরে। আগস্ট মাস থেকে ATLUP মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ধাপে ধাপে প্রকল্প পাঠিয়ে স্কুলটি শেষ পর্যন্ত পৌঁছয় সর্বভারতীয় দ্বিতীয় স্থানে।
শুধু প্রতিষ্ঠান নয়, ব্যক্তিগত র্যাঙ্কিংয়েও উজ্জ্বল করেছেন খাড়বান্ধির ছাত্র-শিক্ষকরা। একাদশ শ্রেণির ছাত্র স্বপন মহাপাত্র—সর্বভারতীয় তৃতীয়, শিক্ষিকা সুদীপ্তা মাইতি—সর্বভারতীয় দ্বিতীয়, শিক্ষক বিশ্বজিৎ ঘোষ—সর্বভারতীয় তৃতীয়, প্রধান শিক্ষক চঞ্চল পাল—দেশের ষোড়শ স্থানে।
এছাড়াও কয়েকজন অভিভাবকও পাঁচ থেকে দশের মধ্যে স্থান অর্জন করেছেন, যা প্রতিযোগিতায় এই স্কুলের জায়গাটিকে আরও শক্তিশালী করেছে। প্রধান শিক্ষক চঞ্চল পাল বলেন, “ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এই অসাধারণ সাফল্য। আগামী দিনে বিজ্ঞানচর্চা আরও বিস্তৃত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
শিক্ষামহলের মতে, খাড়বান্ধি স্কুলের এই সাফল্য গ্রামীণ অঞ্চলে বিজ্ঞান শিক্ষা ও উদ্ভাবনী শিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও গ্রাম থেকে এভাবে জাতীয় স্তরে উঠে আসা—এটি নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

